
জামালপুর জেলা বকশীগঞ্জ উপজেলায় বাট্টাজোর ইউনিয়নে আজমিরগঞ্জ পাক দরবার শরীফের বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা নারীদের মারধর করা হয়েছে বলে ভুক্তিভোগীরা জানান।
সোমবার (৬ নভেম্বর) আনুমানিক সন্ধ্যা সাতটায় উপজেলার দক্ষিণ দত্তেরচর আজমিরগঞ্জ দরবার শরীফ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সোহেল রানা। তিনি আমাদের জানান, এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে এসআই মোঃ শরীফকে ঘটনাটির তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে সঠিক প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত মোঃ খাজা শাহনেওয়াজ জানায়, দরবার শরীফের গদিনসিন হওয়া ও দরবারে আধিপত্যবিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছিল এরই ধারাবাহিকতায় আজ সন্ধ্যা সাতটায় প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দরবার শরীফে হামলা চালায়। দুষ্কৃতহামলাকারীরা দরবার শরীফ ও বসত বাড়িতে গৃহস্থালির মালপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করে বাড়ির আঙ্গিনায় ছুঁড়ে ফেলে দেয়। গৃরস্থালির মালপত্র, কারখানার মালপত্র লুট করে নিয়ে যায় এছাড়াও পরিবারের নারী সদস্যদের মারপিট করে।
এ সময় তারা ঘরের আলমারি ভেঙ্গে নগদ ৯ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা ৫ পাঁচ ভরি স্বর্ণ অলংকার ইউনানী আয়ুর্বেদিক কারখানায় প্রবেশ করে নারকীয় তাণ্ডব চালায়। সেখানে থাকা মূল্যবান মালামাল স্বর্ণভস্ম, রুপাভস্ম, হীরাভস্ম, তামাভস্ম, লোহাভস্ম ও মহামূল্যবান কস্তুরী লুট করে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা। পরবর্তীতে দরবারে উপস্থিত থাকা স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ভুক্তভোগীরা জানায়, সন্ধ্যা সাতটায় মোঃ সায়েম (১৯), মাই টিভির সাংবাদিক মোঃ শামীম আলম(৪০), বাহাদুর(৫০), মোঃ মোস্তফা (৪৫) আরো দশ বারো জন দুষ্কৃতিকারী দরবার শরীফ দখলের চেষ্টা চালায় এবং গদিনশীন খাজা তৌহিদুউল্লাহ কে হত্যার চেষ্টা করে।
এ ব্যাপারে বাদী হয়ে মোঃ খাজা শাহনেওয়াজ বকশীগঞ্জ থানায় ২২ জন সহ আরো অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনাই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।