
লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলা মহিষখোচা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বালা পাড়া (কুটিরপাড়) পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে হামলার ঘটনায় ২ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার আনুমানিক সকাল ৬:৩০ দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, ১, সামিমা পারভিন(৩৫), স্বামী নজরুল ইসলাম (৪৫), ২, সাদিকা ইসলাম লিমা(১৮), পিতা নজরুল ইসলাম। তাদের উভয়ের বাড়ি কোটিরপাড় ৫ নং ওয়ার্ডে।
যাদের নামে আদিতমারী থানায় অভিযোগ হয়েছে ১। মোঃ সাজু মিয়া (২৬), ২। মোঃ টিপু মিয়া (২২), উভয়ের পিতা- মোঃ ফয়জুর রহমান(৫৫), ৩। মোছাঃ ফেন্সি বেগম (68) স্বামী- মোঃ ফয়জুর রহমান, ৪।লাকী বেগম (২২), স্বামী- মোঃ সাজু মিয়া ৫। মোঃ মাসুদ মিয়া (২১), পিতা- মৃত আজিজার রহমান, ৬। মোঃ ফয়জুর রহমান (৫৫), পিতা- মৃত এরফান উদ্দিন। সর্ব সাং- দক্ষিণ বালাপাড়া (কুটির পাড়), ০৫ নং ওয়ার্ড, থানা- আদিতমারী, জেলা- লালমনিরহাট।
আহত সামিমা পারভিন বলেন, আমি সকালে গোয়াল ঘর থেকে গরু বের করার সময় আমার উঠানে বিবাদীরা ধান সিদ্ধ করে আমি গরু নিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তার পাশে টিন সরিয়ে গরু নিতে যাওয়ার সময় ফেন্সি বেগম আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পূর্ব শক্রতার জের ধরে সুযোগ বুঝে সকল বিবাদীরা লাঠি, লোহার রড আরোও অন্যান্য জিনিষ দিয়ে এলো পাতারি আমাকে এবং পড়ে আমার মেয়েকে তারা মারে এবং সাজু আমার পড়নের কাপড় টানা-হেছরা করে খুলে দিয়ে শ্লীলতাহানি করে। আমি এর বিচার চাই।
আহত শিক্ষার্থী মোছাঃ সাদিকা ইসলাম লিমা জানান, আমি অনার্স ফার্স্ট ইয়ারের পরীক্ষার্থী। আমার মার সাথে অকথ্য ভাষায় চিৎকার চেঁচামেচি এবং মারধোর দেখে আমি গেলে ওনারা আমাকেও লোহার রড ও লাঠি সহ আরো অন্যান্য জিনিষ দিয়ে পিঠে ফোলা জখম করে এবং আমার পায়ে টিপু মিয়া রড দিয়ে মেরে ডান পায়ের হাটুর নিচে হাড় ফাটা গুরুতর জখম করে। লাকি বেগম আমার গলার ৮ আনা স্বর্ণের চেইন (মূল্য ৪৫ হাজার টাকা) আমার গলা থেকে ছিঁড়ে নিয়ে যায়। আমি ও আমার পরিবার সুষ্ঠু বিচার চাই।
নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে সন্তান নেই বিধায় আমার সৎ ভাই সহ তারা আমাদের সাথে দীর্ঘদিন থেকে জমিজমা নিয়ে ঝামেলা করে। এই নিয়ে কোর্টে মামলা চলছে। আজকে সামান্য একটা বিষয় নিয়ে তারা আমার স্ত্রী ও মেয়েকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। আমি থানায় অভিযোগ জানাইছি। আমি ও আমার পরিবার তাদের ভয়ে আতঙ্কে আছি আমি এর বিচার চাই ও নিরাপত্তা চাই।
আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, মহিষখোচার মারামারি ঘটনায় নজরুল ইসলাম একটি এজাহার দায়ের করেছেন। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।