
প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় আরও এগিয়ে নিতে আধুনিকায়নের পথে হাঁটছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে 'লাইব্রেরি' নামে নতুন সেকশন চালু করা হয়েছে, যেখানে আপলোড করা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার বইয়ের তথ্য।
গ্রন্থাগারে যুক্ত করা হয়েছে নতুন ১৫টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার, যার প্রতিটিতেই আছে কোর আই-সেভেন, টুয়েলভথ জেনারেশন প্রসেসর এবং গ্রামারলির প্রিমিয়ার সংস্করণ। ফলে শিক্ষার্থীরা এখন আরও স্বাচ্ছন্দ্যে রিসার্চ ও একাডেমিক কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
ওয়েবসাইটের নতুন 'লাইব্রেরি' সেকশনে রয়েছে ক্লাসিক ক্যাটালগ, ইনস্টিটিউশনাল রিপোজিটরি এবং মাই এথেন্স নামে তিনটি প্রধান বিভাগ। 'ক্লাসিক ক্যাটালগ' এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের বইয়ের তালিকা পাওয়া যাবে। শিক্ষার্থীরা বইয়ের নাম লিখে সার্চ করলে জানতে পারবেন বইটির মোট কপি সংখ্যা, সংস্করণ, আন্তর্জাতিক মান পুস্তক নম্বরসহ ( আইএসবিএন) বিস্তারিত তথ্য। সার্চ করা যাবে ইংরেজি ও বিজয় ইউনিকোড দুইভাবেই।
'ইনস্টিটিউশনাল রিপোজিটরি' তে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের থিসিস, প্রজেক্ট রিপোর্ট, ইন্টার্নশিপ রিপোর্ট এবং অনুষদীয় জার্নালসমূহ। অন্যদিকে 'মাই এথেন্স' অংশে পাওয়া যাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ক্রয়কৃত ই-বুক ও ই-জার্নাল, যা নির্দিষ্ট ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তি সংযুক্ত স্মার্ট কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই কার্ডে থাকবে শিক্ষার্থীর লাইব্রেরি, ফাইন্যান্স, হল ও ক্লাস উপস্থিতিসহ যাবতীয় তথ্য এবং এটা যুক্ত থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ডেটাবেজের সঙ্গে।
ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান ও দপ্তরপ্রধান মোঃ মুহিউদ্দীন আলম বলেন, "আরএফআইডি প্রযুক্তি চালু হলে শিক্ষার্থীরা কোনো ঝামেলা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বই ইস্যু ও রিটার্ন করতে পারবে। এটি লাইব্রেরি সেবায় বড় পরিবর্তন আনবে।"
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই স্মার্ট আইডি দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে চলে যাবে তখন এই কার্ড দিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস এটেন্ডেন্স থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ করতে পারবে।"