গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধায় নিজামুল হাসান নামে এক ব্যক্তি নিজেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার দাবি করলেও তার স্বপক্ষে কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় আসলেই তিনি ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার কিনা, সেই প্রশ্ন এখন আরো তীব্র হচ্ছে।
আসলেই তিনি কি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার?
সিভিল এইড কনসালট্যান্টস নামের প্রতিষ্ঠানে গাইবান্ধা শাখায় কাজ করছেন তিনি। জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলার নির্মাণ শ্রমিক সমিতির নেতা আব্দুর রহিম জানান, নিজামুল হাসান গাইবান্ধার অনেক জায়গায় কাজ করতেছে বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। মানুষের মুখে এটাই তো শুনি। একই কথা জানান, রাজমিস্ত্রির কন্টাকটার মিজানুর রহমান মোকছেদ। তিনিও বলেন, নিজামুল হাসান মিশু নামের ওই ইঞ্জিনিয়ার বলেন তিনি নাকি বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দেয়া নিজামুল হাসানের সাথে কথা হয় এবং তিনি নিজেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দাবিও করেন। তবে একাধিকবার বলা সত্ত্বেও তিনি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পড়াশুনার কোনো সনদ দেখাতে পারেননি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলার প্ল্যানার্স এন্ড ডিজাইনার্স প্রকৌশলী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মোঃ ফরমান আলী জানান, তাদের সংস্থার নির্বাচনের সময় গঠিত নির্বাচন কমিশনারের নিকট ইঞ্জিনিয়ার নামধারী এই নিজামুল হাসান তাঁর লেখাপড়ার সনদ দেখাতে পারেনি। পরবর্তীতে তারা নির্বাচিত হবার পর নিজামুল হাসানকে তাদের সংস্থা থেকে বহিষ্কার করেন। তিনি আরো বলেন, সে এখনো গাইবান্ধায় ইঞ্জিনিয়ার না হয়েও বিভিন্ন সাইটে সুপারভিশন করে যাচ্ছে, যেটা অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত।
জানতে চাইলে, গাইবান্ধা প্ল্যানার্স এন্ড ডিজাইনার্স প্রকৌশলী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোঃ রোকন উদ-দৌলা বলেন, এই নিজামুল হাসান নামের ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সমিতির প্রায় সকলে মিলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার। সে ক্ষেত্রে প্রথমে একটা উকিল নোটিশের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান সমিতির দায়িত্বে থাকা এই সাধারণ সম্পাদক।
গাইবান্ধায় কেউ নতুন বহুতল বাড়ি নির্মাণ করবেন এমন মানুষকে টার্গেট করে এই নিজামুল হাসানের হয়ে তার পক্ষে বেশ কয়েকজন অসাধু নির্মাণ শ্রমিক কন্টাকটারকে কথা বলতেও শোনা যায়।
তবে গাইবান্ধার সচেতন মহল মনে করেন যে, এই নিজামুল হাসানের ইঞ্জিনিয়ার হওয়া কিংবা না হওয়ার ব্যাপারে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন, এটাই প্রত্যাশা সবার।