
সেমিনারে আইআইইআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন, ইরানের আল-মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশিন (আইএডি)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নাছির উদ্দিন মিঝি উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের আল-মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ বলেন, মানবাধিকার এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যদিও জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্বের মানুষদের জন্য মানবাধিকার এই মর্মে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলোর পক্ষ থেকে এই মানবাধিকার বিষয়টি খুব হাইলাইট ও খুব গভীরভাবে এটা পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে। কিন্তু বিশেষ কিছু দেশের স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য এবং আইনগুলো সেই দেশের চিন্তা চেতনা অনুযায়ী হয়ে থাকে। এ সংস্থাগুলো সৃষ্টিই করা হয়েছে বড় বড় দেশের বিশাল স্বার্থ চরিতার্থ করার নিমিত্তে। আর এই দৃষ্টিকোণ থেকে যখন আমরা এই বড় বড় সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি তখন তাদের আমল বা আচরণের ক্ষেত্রে মানবাধিকার বিষয়টা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলন, আর এই নারী পুরুষের সম অধিকার বন্টন করার পরিপ্রেক্ষিতে যে সমস্যাটা সৃষ্টি করেছে তারা, যে নারীটা আমার পরিবারের ব্যবস্থাপক হিসেবে পাঁচজন বাচ্চা লালন পালন করার বাচ্চাদেরকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যার মেধা, সময় সেখানে ব্যয় করবে, যে ছিল আমার বাড়ির রানী, রানীর মর্যাদায় যে ভূষিত ছিল সেই নারী ওই সম মর্যাদার কারণে এখন নেমে এসেছে রাস্তায় এবং ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছে বাঁশি দিয়ে বলছে কোন গাড়ি কোন দিকে যাবে, কোন রাস্তা বন্ধ হবে সেই কাজে এখন ব্যস্ত হয়েছে তারা। এই নারী-পুরুষের সমমর্যাদা বিধান করতে যেয়ে তারা নারীকে নারীর নারীত্ব থেকে বঞ্চিত করে নারীকে পুরুষত্ব দান করেছে তারা।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ইসলাম সর্বশেষ মনোনীত ধর্ম। এটি মানবতার ধর্ম। এটি ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবাইকে সহানুভূতি, ন্যায় এবং সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দেয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের দেখিয়েছেন, প্রকৃত ইবাদত হল মানবতার সেবায় নিয়োজিত হওয়া। আজকের বিশ্বে যদি আমরা এই মূল্যবোধগুলোকে মানি, তবে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, সহমর্মী এবং নৈতিক শক্তিতে পূর্ণ সমাজ গঠন করতে পারব।
থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সেকান্দার আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকবৃন্দ ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।