
শাহজাহান খন্দকার
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বেসরকারি ডক্টরস কমিউনিটি ক্লিনিককে “কসাইখানা” আখ্যা দিয়ে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন এক প্রসূতি রোগীর পরিবার। নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ঘটনাটি ইতোমধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২০ অক্টোবর ২০২৫ ইং) বিকেলে। ওই দিন উলিপুর ডক্টরস কমিউনিটি ক্লিনিকে মিথি বেগম নামে এক প্রসূতি রোগীর নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ডেলিভারির পর নবজাতক শিশুটি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানেও অবস্থার অবনতি হলে নবজাতককে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসা সেবায় ত্রুটি ও অবহেলার কারণেই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে উলিপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী ও মৃত নবজাতকের স্বজনরা। তারা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের শাস্তি এবং বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর ওপর প্রশাসনিক নজরদারি জোরদারের দাবি জানান।
অন্যদিকে, ডক্টরস কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. লোকমান হাকিম চিকিৎসায় কোনো অনিয়ম বা অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
২০ অক্টোবর ২০২৫ ইং, রোজ সোমবার বিকেলে আমার প্রতিষ্ঠানে মিথি বেগম নামে এক প্রসূতি রোগীর প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার চলাকালীন কোনো অনিয়ম বা অবহেলা ঘটেনি। পুরো প্রক্রিয়াটি সঠিক নিয়মে সম্পন্ন হয় এবং নবজাতক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পেয়েছে। রোগীর অভিভাবকদের একাধিকবার সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজনীয়তা জানানো হলেও তারা তা গ্রহণ করেননি।
তিনি আরও বলেন,
পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিষয়টি পারস্পরিকভাবে মীমাংসিত হয় এবং অভিভাবক পক্ষের বক্তব্য ও দাবির ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন থেকে যায়—যে বিষয়টি ইতোমধ্যেই সামাজিকভাবে ও পারস্পরিক সম্মতিতে নিষ্পত্তি হয়েছে, সেটি ঘিরে একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করা কতটা যৌক্তিক বা নৈতিক?”
ডা. লোকমান হাকিম আরও যোগ করেন,
আমরা সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। রোগীর বয়স কম এবং জরায়ু জটিলতার কারণে ডেলিভারি প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘ হয়েছিল, যার ফলে নবজাতক শারীরিকভাবে দুর্বল ছিল। অসুস্থতার কারণে দ্রুত কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শিশুটি রংপুরে নেওয়ার পথে মারা যায়। আমরা মিথিলা মনির পরিবারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যয় বহন করেছি এবং বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।
এদিকে, নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ঘটনাটির স্বচ্ছ তদন্ত ও তথ্যপ্রমাণ যাচাই করলে প্রকৃত সত্য প্রকাশ পাবে এবং অপপ্রচার বা ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বন্ধ হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারেও এটি ভূমিকা রাখবে।