
উপজেলার সব মানুষের ভরসার স্থান ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। কিন্তু হাসপাতালটির পাঁচটি ইসিজি যন্ত্রের চারটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। একমাত্র সচল পুরোনো ইসিজি যন্ত্রটি জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য রাখা হয়েছে। ডিজিটাল আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্রটির প্রিন্টার নষ্ট। জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসকেরা আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট কম্পিউটারে দেখে রোগনির্ণয় করছেন। প্রিন্ট রিপোর্ট না পাওয়ায় সেটির কার্যকারিতা নিয়ে রোগীদের প্রশ্ন রয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রমও বন্ধ।
সরকারি হাসপাতালটিতে চিকিৎসা কর্মকর্তা থাকার কথা ১৬ জন; কিন্তু আছেন মাত্র ৩ জন। ১০ জন জুনিয়র কনসালট্যান্টের বিপরীতে আছেন একজন। গাইনি, শিশু ও মেডিসিন, নাক, কান ও গলাবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শূন্য। এ ছাড়া ল্যাব টেকনিশিয়ানের তিনটি, অফিস সহায়কের পাঁচটি পদ ফাঁকা। তিনজন ওয়ার্ড বয়ের বিপরীতে আছেন একজন। হাসপাতালে দুজন আয়া থাকার কথা থাকলেও এ পদটিও শূন্য।
এত সমস্যা ও সংকট নিয়ে হাসপাতালটি কীভাবে রোগীর চিকিৎসাসেবা দেবে? ফলে সেবা নিতে আসা রোগীদের অনেকেই পরীক্ষার যন্ত্র না থাকায় ফিরে যাচ্ছেন। চিকিৎসক না থাকায় ধরনা দিচ্ছেন বাইরের প্রাইভেট চিকিৎসকের কাছে। ফলে চিকিৎসার পেছনে বাড়তি খরচ পড়ছে রোগীদের। এতে ভোগান্তি বাড়ছে গরিব বা নিম্ন আয়ের মানুষের। সামর্থ্য না থাকায় অনেকে হাসপাতালেই পড়ে থাকেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বক্তব্য, দৈনিক বহির্বিভাগে ২৫০ থেকে ৩০০ জন এবং অন্তর্বিভাগে প্রায় ৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। এত সংকট নিয়ে বিপুল জনসংখ্যার সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। ছয় মাস আগে ইসিজি যন্ত্র মেরামতের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো খবর নেই।
আমরা আশা করছি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহায়তা পেলে হাসপাতালটির সমস্যাগুলো দ্রুত নিরসন হবে। যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসক ছাড়া এভাবে একটি হাসপাতাল চলতে পারে না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।