
কাউনিয়ায় অ্যানথ্রাক্স রোগের প্রাদূর্ভাব দ্রুত ছড়িয়েপড়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। আক্রান্ত গরুর মাংস কাটা, নাড়াচাড়া ও খাওয়ার কারণে ঠাকুরদাস গ্রামের সোহেল (৩৫), এরশাদুল ইসলাম (৪০), জাহিদ হোসেন (২৮) এবং শান্তা বেগম (২৫) অসুস্থ হয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা চলছে এবং তাদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
কাউনিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে সরজমিনে গিয়ে এলাকা জুড়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৫ হাজার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আরও ৩০ হাজার ভ্যাকসিন আনা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে টিম গঠন করে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ২৬ হাজার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে দুই-একদিনের মধ্যে ৩৫ হাজার ভ্যাকসিন প্রদান সম্পূর্ণ হবে।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন হাট ও বাজারে লিফলেট বিতরণ এবং পথসভা আয়োজন করা হচ্ছে। মাঠকর্মীদের নিয়ে একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা হাটবাজারে উপস্থিত থেকে কসাইদের গরু জবাই করার সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। প্রতিটি কসাইকে বিষয়টি বোঝাতে চিঠি ও লিফলেটও বিতরণ করা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুজয় সাহ জানান, চারজন অসুস্থ রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা চলমান রয়েছে এবং তাদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
চিকিৎসকেরা জানান, অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গবাদিপশুর শ্লেষ্মা, লালা, রক্ত, মাংস, হাড়, নাড়িভুঁড়ির সংস্পর্শে এলে মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগ গবাদিপশু থেকে মানুষে ছড়ায়, তবে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। মানুষের শরীরে এ রোগের প্রধান লক্ষণ হচ্ছে চামড়ায় ঘা সৃষ্টি হওয়া। এ জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগকে গরু-ছাগলের প্রতিষেধক টিকা কার্যক্রম জোরদার করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুজয় সাহ জানান, চারজন অসুস্থ রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা চলমান রয়েছে এবং তাদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।