
রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর ভাঙনে কাউনিয়া উপজেলার পাঞ্জরভাঙ্গা ও গদাই নামক দুই গ্রামের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। গদাই ও পাঞ্জাব ভাঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখলাম কয়েক টি বাড়ি ভাংছে জিজ্ঞেস করতেই দুই বৃদ্ধ আব্দুর রহমান ও মোস্তাক বাবু বললেন, আমার সোগ নদীত ভাঙ্গি নিয়ে যাবার ধরছে । কষ্টে আছং কোন্টে থাকমো? পাগলা তিস্তা নদী হামার বাড়িঘর ভাঙ্গি নিবার ধরছে । একটু সামনে গিয়ে দেখি অন্যের উঠানে বেশ কয়েকটি পরিবার আবসবাপত্র বেড়াটাটি নিয়ে ঠাঁই নিয়েছে। আরও অনেক ঘরের চাল, বেড়াসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র সরাইয়া রাখছে, তিস্তা নদীগর্ভে বিলীন হতে যাচ্ছে প্রায় ১৫০ একর ফসলি জমি ওই দুই বৃদ্ধার অশ্রুচোখের দিকে বেশিক্ষন তাকাতে পারলাম না। এই কষ্ট যদি আমাদের জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের কিংবা সরকারের কর্তারা উপলব্ধি করতেন, তাহলে তাঁরা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন।
নদী-তীরবর্তী গদাই ও পাঞ্জের ভাঙ্গা এলাকা থেকে বলছিলাম, কাউনিয়া উপজেলার ৫নং বালাপাড়া ইউনিয়নের মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা। প্রায় দেড় হাজার বাড়ি চলতি বর্ষায় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও কত এলাকা এবার নদীগর্ভে বিলীন হবে তা অনুমান করা সম্ভব না। সরকারের হয়ে যেন এ সব গ্রামের অসহায় মানুষ গুলোর খোঁজ খবর নেওয়ার কেউ নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিদুল হকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, তিনি নিজে ভাঙ্গন স্থানে গিয়েছিল অসহায় মানুষদের খোঁজখবর নিয়েছেন, এবং তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি এমপি মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন ভাঙ্গন রোধের জন্য যা যা করণীয় দরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন । নদীর গভিরতা কম সেই জন্য বেশি ভাংতেছে আমাদের ধারনা। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষদের প্রাণের ব্যবস্থা করা হবে।