
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঁচপীর কেরামতিয়া দ্বি-মুখী আলিম মাদ্রাসায় অবৈধভাবে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিয়ম-নীতি না মেনে গোপনে নিয়োগ সম্পন্ন করায় পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও পদত্যাগের কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে ৬টি শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তবে সরকারি বিধি অনুযায়ী দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করার নিয়ম থাকলেও এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পাথাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোঃ সাদ্দাম চৌধুরীসহ অনেকেই।
তাদের অভিযোগ, গোপনে নিয়োগ দিয়ে যোগদান করানো হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সুধী সমাজের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নিয়োগ ও যোগদান অনুষ্ঠান
অভিযোগের মধ্যেই গত ১৮ আগস্ট ২০২৫, সোমবার সকালে গভর্নিং বডির উপস্থিতিতে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদান করানো হয়। নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন—
অধ্যক্ষ আহাম্মদ আলী
অফিস সহকারী আশিক রহমান
হিসাব সহকারী আব্দুল মজিদ
অফিস সহকারী মমতাজ বেগম
ল্যাব সহকারী রাকিবুল ইসলাম
আয়া পদে সুমাইয়া আক্তার
নবাগত অধ্যক্ষকে বরণ ও অন্যান্য নিয়োগপ্রাপ্তদের সংবর্ধনা উপলক্ষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নুরেশ্বর আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহাতাব হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— গভর্নিং বডির সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সুপার মোঃ আব্দুর রহিম, সাবেক অভিভাবক সদস্য আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দুর্গাপুর ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম, গভর্নিং বডির সদস্য আব্দুল মতিন, মোহাম্মদ আলী, ওসমান আলী, মিজানুর রহমান, সুলতান আহমেদ, রিয়াজুল ইসলাম, মাহমুদা বেগম ও সহিদা বেগম।
অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ
যদিও যোগদান অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়, তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এখনো তদন্ত সাপেক্ষে রয়ে গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।