
দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অসীম সাহস, ত্যাগ ও বীরত্বের পরিচয় রেখে যাওয়া অগ্নিকন্যা, মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক তারামন বিবির আজ ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী। কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের শংকর মাধবপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি নারী ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর রাজিবপুর কাচারীপাড়ায় নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। সীমান্ত এলাকা ধরে শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ, মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা—সবক্ষেত্রেই অসাধারণ ভূমিকা রেখেছিলেন তারামন বিবি। দেশের স্বাধীনতা অর্জনে নারীর অংশগ্রহণের যে গৌরবময় ইতিহাস, সেখানে তিনি অন্যতম উজ্জ্বল নাম।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে সরকার তাঁকে বীরপ্রতীক খেতাব প্রদান করে। কিন্তু দীর্ঘদিন তিনি এ তথ্য জানতেন না। ১৯৯৫ সালে গবেষক বিমল কান্তি দে ও অধ্যাপক আবদুস সবুর ফারুকীর উদ্যোগে তাঁকে পুনরায় খুঁজে বের করা হয়। পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় তাঁর হাতে “বীরপ্রতীক” পদক তুলে দেন। ভুলে যাওয়া এক বীরকন্যার সাহসিকতার ইতিহাস সেই দিন নতুন করে আলোর মুখ দেখে।
তারামন বিবির বীরত্ব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি প্রমাণ করেছিলেন, দেশের প্রয়োজনে নারী ঘর-সংসার সামলানোর পাশাপাশি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেও মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে পারে। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় জীবনে তাঁর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।
জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকবে এই সাহসী কন্যার প্রতি—যিনি জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য।