
তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদবিধৌত কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৩ আসন। ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসন একসময় জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে গত দুই দশকে এখানে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পালাবদলের রাজনীতি লক্ষ্য করা গেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কুড়িগ্রাম-৩ আসনে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না—এ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে, 'স্বৈরাচারের দোসর' হিসেবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ায় জাতীয় পার্টিও রয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্বে। ফলে আসনটি ধরে রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলেই মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
এই প্রেক্ষাপটে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। দলীয়ভাবে তারা একক প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং মাঠে সক্রিয় তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে হাল ছাড়তে নারাজ জামায়াতে ইসলামী। তারাও এই আসনে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে মরিয়া। ফলে আসনটিকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যেও একটি ঠাণ্ডা প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে নির্বাচনের ফল নির্ভর করবে জোটভিত্তিক কৌশল, প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কে কার পক্ষে ছাড় দেয় এবং কে কাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।