
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় এক হিন্দু নারীকে ধ-র্ষ-ণের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা ফজর আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৩৮ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে ‘চাকু দেখিয়ে ধ-র্ষ-ণ’ ও ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৬ জুন রাতে উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের এক গ্রামীণ এলাকায় ভুক্তভোগী ওই নারীর ঘরে ঢুকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ফজর আলী ধ-র্ষ-ণের ঘটনা ঘটায়। ঘটনার সময় তিনি একাই ছিলেন এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিল না।
ঘটনার পর স্থানীয়রা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে অভিযুক্তকে ধাওয়া করে। যদিও তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে ২৯ জুন ভোরে ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে মুরাদনগর থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ভিডিও ধারণ ও প্রচারের দায়ে আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মুরাদনগর থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান জানান, “বিএনপি নেতা ফজর আলীকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর জবানবন্দি গ্রহণ ও মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।”
ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হা-ম-লা-র ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
কুমিল্লা জেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।