গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তালুক কানুপুর ইউনিয়নের এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে বয়স জালিয়াতি করে এক অভিযুক্ত হ্যাকার ও প্রতারককে জামিন পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত হ্যাকার পলাশ এবং ওই আইনজীবী হলেন সেফাউল ইসলাম রিপন। এই ঘটনায় এলাকাবাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এলাকাবাসী ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতারক চক্রের প্রধান হিসেবে পরিচিত পলাশকে কিছুদিন আগে সেনাবাহিনী প্রতারণার সরঞ্জামসহ আটক করে। দুই সন্তানের জনক পলাশের প্রকৃত বয়স ২৬ বছরের বেশি হওয়া সত্ত্বেও, আইনজীবী সেফাউল ইসলাম রিপন তার নিবন্ধন বা জন্মসনদ জাল করে বয়স ১৬ বছর দেখিয়ে তাকে শিশু-কিশোর হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করেন এবং জামিন মঞ্জুর করান।
এই ঘটনায় তালুক কানুপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা নেমে এসেছে। তারা এই ঘটনাকে ‘সামাজিক অবক্ষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে আইনজীবী রিপনের এমন কর্মকাণ্ডে হতাশা প্রকাশ করেছেন। একজন ভুক্তভোগী বাসিন্দা বলেন, "জনদরদী উকিল সাব তো জানতেন পলাশ কত বড় মাপের হ্যাকার। তিনি কিভাবে বয়স কমিয়ে তার জামিনের ব্যবস্থা করলেন! আমরা তালুক কানুপুরবাসী লজ্জিত এবং এমন কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে গাদ্দারের তালিকায় যুক্ত করলাম।"
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুরো তালুক কানুপুর ইউনিয়ন প্রতারক চক্রে ছেয়ে গেছে। যেখানে সাধারণ মানুষ প্রশাসনকে অপকর্ম রোধে সহযোগিতা করার চেষ্টা করে, সেখানে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং আইনি ফাঁকফোকর গলে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করছে, যা সমাজের জন্য অশনিসংকেত।
এই ঘটনাটি আইনের অপব্যবহার এবং অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। এলাকাবাসী এই বয়স জালিয়াতির অভিযোগের সঠিক তদন্ত এবং ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।