
ক্ষয়ক্ষতিতে আইলাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। গত ২৬ মে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় রেমাল লন্ডভন্ড করে দেয় উপকূলীয় জনপদ পাইকগাছা। ঘূর্ণিঝড় রেমাল বিধ্বস্ত করে দিয়েছে উপকূলীয় এ জনপদের ওয়াপদার বেড়িবাঁধ। বেড়িবাঁধ এতটাই বিধ্বস্ত হয়েছে চার চারটা দিন প্রাথমিক মেরামত করতে সংগ্রাম আর প্রাণপণ চেষ্টা করতে হয়েছে এলাকার জনসাধারণ সহ সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে। প্রলয়ংকারী এ ঝড়ে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি কৃষি ফসল, মৎস্য সম্পদ সহ মোট ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক পরিমাণ দাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। ক্ষয়ক্ষতির এ পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে স্থানীয় প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ। ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে যায় ওয়াপদার বেড়িবাঁধ। পৌরসভা সহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ স্থানে ওয়াপদার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার বাঁধ প্রাথমিক করতে সক্ষম হয় সংশ্লিষ্টরা। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার বাঁধ মজবুত করতে সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের কোটি কোটি অর্থের প্রয়োজন হবে। অনুরূপভাবে প্লাবিত হয়ে ভেসে গিয়েছে ৪ হাজার পুকুর—জলাশয় ও চিংড়ি ঘের। যার আর্থিক ক্ষতি ৭২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানান সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক। ২ হাজার হেক্টর জমির কৃষি ফসল ক্ষতি হয়েছে, যার আনুমানিক আর্থিক ক্ষতি সাড়ে ১০ কোটি টাকা। ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে গবাদি পশু ও হাঁস—মুরগি। ঝড়ে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে ১৬ হাজার ৯৫০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কমবেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১৭ হাজার বসতবাড়ী। ক্ষতি হয়েছে ১০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন। অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে ৭৬টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। একইভাবে ক্ষতি হয়েছে ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ৫শ হেক্টর বনাঞ্চলের ক্ষতি হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতি ১০ কোটি টাকা। ৯২৫টি স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ও ১৫০টি অগভীর নলকূপের ক্ষতি হয়েছে। সবমিলিয়েই ঘূর্ণিঝড় রেমাল এর আঘাতে অত্র উপজেলায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন। কিছুদিন গেলে ক্ষয়ক্ষতির এ পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার মানুষ।