
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নুনখাওয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চর কাপনা গ্রামের কাঠমিস্ত্রির সন্তান রবিউল ইসলাম এখন জেলার গর্ব। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ–৫ অর্জন করেছে সে।
রবিউলের বাবা একজন কাঠমিস্ত্রি এবং মা গৃহিণী। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রবিউল সবার ছোট। দারিদ্র্য ও চরাঞ্চলের অনুন্নত পরিবেশ তার শিক্ষাজীবনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এলাকায় বিদ্যালয় না থাকায় একসময় তার পড়াশোনা বন্ধও হয়ে যায়।
বাবার সঙ্গে মাঠে ও কাঠের কাজে হাত লাগালেও পড়াশোনার প্রতি রবিউলের আগ্রহ কখনো নিভে যায়নি। ঠিক তখনই প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার শিক্ষক মো. আ. কাদের তার মেধা ও আগ্রহ লক্ষ্য করে তাকে পুনরায় বিদ্যালয়ে ভর্তি করান। এরপর থেকেই রবিউলের জীবনে শুরু হয় নতুন অধ্যায়।
শিক্ষক ও সহপাঠীদের সহায়তায় নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে ওঠে সে। ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ–৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। সেই সাফল্যের পর ‘প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি’ লাভ করে রবিউল, যা তার শিক্ষাজীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
শিক্ষাবৃত্তির সহায়তায় রবিউল ভর্তি হয় ভিতরবন্দ ডিগ্রি কলেজে। সেখান থেকে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আবারও জিপিএ–৫ অর্জন করে সে।
ফলাফল জানার পর আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায় রবিউল ও তার পরিবার। রবিউল জানায়, ভবিষ্যতে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চায়।
রবিউলের এই অসাধারণ সাফল্যে গর্বিত তার বাবা-মা, শিক্ষক এবং প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীরা। সবাই বিশ্বাস করেন, রবিউল একদিন দেশের জন্য বড় কিছু করবে।