জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটিকে ‘মাইম্যান, সিন্ডিকেট ও ছাত্রলীগের পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে ছাত্রদলের একটি অংশ। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) টানা তৃতীয় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতারা।
বিক্ষোভকারী নেতারা অভিযোগ করেন, বর্তমান আহবায়ক কমিটি ছাত্রদলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হবে এবং এটি ক্যাম্পাসে বিভেদ সৃষ্টির পাশাপাশি ছাত্রদলের ঐতিহ্য ও গৌরবকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় নেতারা নিজের অনুগতদের কমিটিতে স্থান দেয়ার জন্য দীর্ঘদিনের আন্দোলনকারীদের উপেক্ষা করেছেন। এমনকি যারা গত ১৫ বছরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, তাদেরকেও বাদ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মন্তব্য করেন, "কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের নিজস্ব মাই ম্যানদের ইউনিটগুলোতে বসিয়ে আমাদের সাথে তামাশা করছে।" তারা আরও বলেন, "এ কমিটি আমাদের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র, যেখানে আন্দোলনের পুরোনো সৈনিকদের বাদ দিয়ে নবাগতদের সুযোগ দেয়া হয়েছে।"
জবি ছাত্রদলের সাবেক সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস শুকুর আইমান বলেন, “এই কমিটি গঠন হয়েছে পকেট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। যারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন, তাদের বাদ দিয়ে ছাত্রলীগের পরবর্তী সময়ে যোগ দেয়া নেতাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি যারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয়, তাদেরও কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে। এই কমিটি আমরা ৪৫ দিন নয়, একদিনও মেনে নেব না।"
এর আগে, ২৪ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ৪৫ দিনের মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণা করার কথা জানিয়েছিল। নতুন কমিটি হিসেবে মেহেদী হাসান হিমেলকে আহ্বায়ক ও শামসুল আরেফিনকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর পরদিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে আন্দোলনকারী নেতারা বিক্ষোভ শুরু করেন।