
ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আলামিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে কলেজ পড়ুয়া এক মেয়কে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের। ইউপি সদস্য আলামিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা বিচার না পেলে আত্মহত্যার হুমকি ভুক্তভোগী নারীর পলাতক মেম্বার
আলামিন হরিনাকুণ্ডু উপজেলার সোনারদাইড় গ্রামের মো: হান্নান মোল্লার ছেলে। বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ঝিনাইদহের ভেটেরিনারি কলেজে মাস্টার রুলে একটি চাকরিও করেন। আলিমনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী (সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে নাম পরিচয় গোপন রাখা হলো) ঝিনাইদহের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুনালে ১৪/০৫/২০২৪ ইং তারিখে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৯৮/২০২৪।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীকে বিয়ের নাটক সাজিয়ে ইউপি সদস্য আলামিন রাতভর একটি বাড়িতে রেখে ধর্ষণ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেয়েও ধর্ষণ করেছে এই ইউপি সদস্য আলামিন। পরবর্তীতে স্ত্রীর স্বীকৃতি চাইলে ইউপি সদস্য আলামিন ভুক্তভোগী ওই নারীকে বলেন তোমার সাথে আমার কোনো বিবাহ হয়নি, তখন যে বিবাহ হয়েছিল সেটা সম্পূর্ণ ভুয়া, কাজী ডেকে মৌখিক বিবাহ ছিল, সবই ছিল নাটক।
অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিকদের জানান, আমার বাড়ি একই ইউনিয়নে, আমার ব্যক্তিগত কাজে চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদে যাই, তখন আমার কাজ করে দেবার কথা বলে ফোন নাম্বার নিয়ে বিভিন্ন ভাবে ছলেবলে কৌশলে হাত কেটে ও আবেগি কথাবার্তা বলে প্রপোজ করতে থাকে,একটা সময় আমাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়,এরই মাঝে আমাকে একদিন যশোরে আলামিনের এক ভাবীর বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আমি অনেক কান্নাকাটি করলে তার ভাবী ও আলামিন মেম্বার আমাকে বিবাহের প্রতিশ্রুতি দেয়।
এরপর একদিন ভুয়া কাজী ডেকে আমাকে বিবাহের নাটক সাজায়, যাহা তখন আমি সত্যি বিবাহ মনে করি এবং এর পর থেকে বিভিন্ন স্থানে আমাকে নিয়ে যেয়ে ধর্ষণ করতে থাকে কিন্তু আমি স্ত্রীর স্বীকৃতির কথা বলায়, মেম্বার আলামিন আমাকে সবই নাটক ছিল বলে, আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
এছাড়াও ভুক্তভোগী নারী জানায়, চাঁদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল আলামিনকে শেল্টার দিচ্ছে যার কারণে আলামিন ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছেন। আমি যদি সঠিক বিচার না পাই তবে আত্মহত্যা করবো আর আমার আত্মহত্যার জন্যে দায়ী থাকবে মেম্বার আলামিন ও চেয়ারম্যান কামাল।
ইউপি সদস্য আলামিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার তার মোবাইলে কল করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামালের সাথে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আলামিনকে অভিযোগের ভিত্তিতে ডেকে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করেছি,কিন্তু আলামিন প্রথমে ওই মেয়েকে সামাজিক ভাবে বিবাহ করতে চাইলেও পরবর্তীতে আর রাজি হয়নি যার কারণে আমি এই ঘটনার ভেতর থেকে বের হয়ে গেছি। বর্তমানে আলামিন ও মেয়েটি উভয়ের আমাকে দোষারোপ করছে। ইউপি চেয়ারম্যান আরো জানান,আলামিন বর্তমানে পলাতক রযেছে তাঁরসাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই। সে পরিষদেও আসেনা।