
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। আদালতে মামলা ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পরও।
আজ সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বসছে নিয়োগ বোর্ড। ঝিনাইদহ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা বসছে বলে জেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে বলা হচ্ছে। এদিকে নিয়োগ বোর্ড বসার আগেই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে জুয়েল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষক, অফিস সহায়ক, নিারপত্তাকর্মী, আয়া ও নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ দেওয়ার নাম করে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর পাঁচলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগে পরিচালনা কমিটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।
সে অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদে ৪ জন, সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে ১৪ জন, অফিস সহায়ক পদে ৯ জন, আয়া পদে ৬ জন, নিরপত্তা কর্মী পদে ১০ জন ও নৈশ প্রহরী পদে ৭ জন প্রার্থী আবেদন করেন। নিয়ম অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াও শেষ করেছেন। বর্তমানে এই স্কুলটিতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় মানোয়ার হোসেন নামে এক সহকারি শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান শিক্ষক না থাকার সুযোগে সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে জুয়েল বিশ্বাস নিয়মবহির্ভূত ভাবে সব কিছু করে থাকেন বলে কথিত আছে।
তিনি নিয়োগ বোর্ড বসার আগেই প্রধান শিক্ষক হিসাবে শেরখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক রহিমা খাতুন, সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে নিজের বন্ধু একই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক প্রসাদ কুমার বিশ্বাস, আয়া পদে বন্ধুর স্ত্রী রিক্তা খাতুন, অফিস সহায়ক পদে সাকিব হাসান ওরফে সিরাজ, নিরাপত্তা কর্মী পদে সোহেল হোসেন এবং নৈশ প্রহরী পদে জনি মিয়াকে চূড়ান্ত করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে ৬ পদে নিয়োগ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে সভাপতি ৫৩ লাখ টাকা নিয়েছেন এমন কথা হাটে বজারে প্রচার হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক পদে কোটচাঁদপুরের বিসিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী এবং সদ্য নিয়োগ পাওয়া বলুহর মোজাফ্ফর হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মশিয়ার রহমান রহিমা খাতুনকে প্রক্সি হিসাবে সহযোগিতা করবেন বলে জানা গেছে। এর আগে এই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য আব্দুল ওহাব নিয়োগে দুর্নিতির অভিযোগ এনে আদালতে মামলা ও অভিভাবক ঝন্টু রহমান ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলে দুইবার নিয়োগ বোর্ড বাতিল হয়।
এব্যাপারে সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে জুয়েল বিশ্বাস বলেন, নিয়োগ দিতে গেলে খরচ লাগে। এসময় মোটা অংকের টাকা গ্রহনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, চারিদিক সামলিয়ে নিয়োগ দিতে যে খরচ হয় তা নিয়েছি। খরচের খাত হিসাবে তিনি চাহিদা নির্দেশিকা, নিয়োগ বোর্ড ও এলাকার নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধির কথা উল্লেখ করেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মানোয়ার হোসেন বলেন, অর্থ লেনদেনের কোন সুযোগ নেই। শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই নিয়োগ দেওয়া হবে। কোটচাঁদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অশোক সরকার বলেন, সোমবার নিয়োগ বোর্ড বসবে। নিয়োগের বিষয়টি পরিচালনা কমিটির এখতিয়ার, আমি ওই কমিটির সদস্য মাত্র।