
মঙ্গলবার সকালের শিশির ভেজা সকাল। তখনও ভোরের আলো ঠিকমতো ফোটেনি। চারিদিকে কোয়াশাচ্ছন্ন। শরতের আকাশে মেঘের ভেলা ভেসে চলেছে। আবীর রাঙ্গা ভোর পার না হতেই খন্ড খন্ড মিছিলের শব্দ। গন্তব্য ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, বিএনপির খুলনা অভিমুখে রোডমার্চ। রোডমার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করতে প্রস্তুত বিশাল সভামঞ্চ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর্জা আব্বাস। পুর্ব দিগন্তে সুর্য্য থাকতে থাকতেই দলীয় নেতাকর্মীদের বাঁধভাঙ্গা জোয়ার। হোস্ট জেলা ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা থেকে নেতাকর্মীরা গাড়ির বহর নিয়ে ছুটে আসছেন ঝিনাইদহ শহরে। সেই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া মহল্লা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন।
এ ভাবেই সকাল ৯টার মধ্যে কানায় কানায় পুর্ন হয়ে যায় সভাস্থল। প্রায় আড়াই কিলোমিটার জুড়ে মানুষের ঢেউ আছড়ে পড়ে। শত শত মাইক্রো, প্রাইভেট কার, বাস ও মটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা রোডমার্চে শরীক হন। রোডর্মাচকে ঘিরে বেশ ক’দিন ধরেই নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছাস ও উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে গতকাল মঙ্গলবারের রোডমার্চকে ঘিরে মিছিলে মিছিলে উত্তাল ও লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে ঝিনাইদহ শহর।
এদিকে বিএনপির এই রোডমার্চকে ঘিরে সারা শহর রংবেরঙয়ের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে সয়লাব হয়ে যায়। বিশেষ করে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পোস্টার ও ব্যানের ছেয়ে যায়। শুধু ঝিনাইদহ নয়, আশপাশ জেলার বিএনপি নেতাদের ছবি সম্বলিত পোস্টারও দেখা গেছে সভাস্থলে।
৮৫ বছরের বৃদ্ধ মনজের মোল্লা এসেছিলেন হরিণাকুন্ডুর মোকিমপুর গ্রাম থেকে। তিনি এই রোডমার্চে শরীক হয়েছেন নির্বিঘেœ ভোট দেবার জন্য। তার ভাষ্য, ১৫ বছর ধরে তিনি কোন নির্বাচনেই ভোট দিতে পারেনি। তাই এই বৃদ্ধ বয়সেও তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের দিক নির্দেশনামুলক বক্তব্য ও জনতার উচ্ছাস দেখতে ঝিনাইদহ শহরে এসেছেন বলে জানান। শৈলকুপার ভাটই গ্রামের ৮০ বছরের বৃদ্ধ সিদ্দিকুর রহমান ও পুটিমারি গ্রামের বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী জানান, তাদের সন্তনরা বিএনপি করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ। মিথ্যা মামলা আর হয়রনীর প্রতিবাদ করতেই তারা এই সমাবেশে এসেছেন।
একই কথা জানালেন ডেফলবাড়ি গ্রামের মঈনুদ্দীন ও বিত্তিদেবী গ্রামের নাজিমুদ্দীন। তারা জানান, যতদিন জীবিত থাকবেন ততদিন হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে যোগদান করে প্রতিবাদ জানিয়ে যাবেন।