
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় এই প্রথমবার দেশজুড়ে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হবে। কর্মসূচির অধীনে ৯ মাস থেকে শুরু করে ১৬ বছরের কম বয়সী প্রায় ৫ কোটি শিশু ও কিশোর-কিশোরীকে বিনামূল্যে ‘টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি)’ প্রদান করা হবে। গ্যাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের সহায়তায় এই টিকা সরবরাহ করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডঃ মঞ্জুর আহমেদ বলেন, "টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়াঘটিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ছড়ায়। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা এবং পানি দূষণের কারণে এর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, পেটে ব্যথা এবং শারীরিক দুর্বলতা এর প্রধান লক্ষণ। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, "টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকার কোনো বিকল্প নেই। টিসিভি একটি অত্যন্ত কার্যকর ও নিরাপদ টিকা। এর একটি মাত্র ডোজ ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে সক্ষম। সরকার এই টিকা বিনামূল্যে বিতরণের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।"
[caption id="attachment_37692" align="aligncenter" width="300"]
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই টিকাদান কর্মসূচি দুই ধাপে সম্পন্ন হবে।
ইতোমধ্যে গত ১ আগস্ট থেকে টিকার জন্য অনলাইন নিবন্ধন শুরু হয়েছে। vaxepi.gov.bd/registration/tcv ওয়েবসাইটে শিশুর ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নিবন্ধনের পর টিকা কার্ড ডাউনলোড করে নির্দিষ্ট দিনে টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা নেওয়ার পাশাপাশি টাইফয়েড প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতাও জরুরি। নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করা, খাবার ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া, খোলা ও বাসি খাবার পরিহার করা এবং খাওয়ার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। সরকারের এই বিশাল টিকাদান কর্মসূচি সফল করার মাধ্যমে আগামীতে শিশুদের টাইফয়েডের ঝুঁকি থেকে অনেকাংশে মুক্ত রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।