
হরিপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসাবরক্ষণ কর্ শেরিকুজ্জামান ও অডিটর হান্নান লেনদেনে আটক হয়েছেন
আজ সোমবার দুপুর ১২ টার সময় তারা নিজ অফিস কক্ষে ঘুষ লেনদেনের সময় হাতেনাতে আটক হন।
ভুক্তভোগীদের দাবি,ঘুষ লেনদেনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলো এই হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও অডিটর। হিসাবরক্ষণ অফিসে যোগদান করার পর থেকে ঘুষ লেনদেনের মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছিলো,প্রত্যেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিকট থেকে দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা ঘুষ নিতো আর কাজে নিম্ন রেট ২০ হাজার টাকা।
ইতঃপূর্বে শেরিকুজ্জামান ও অডিটর মজিবর রহমানের ঘুষ লেনদেনের বিরুদ্ধে ঘুষ দূর্নীতির স্থানীয় জনসাধারণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম জানান, এই কর্মকর্তাদ্বয়ের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনেক আগে থেকেই ছিল, হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্যে কমপ্লেক্স অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক জোহরা খাতুনের ছেলে মো,জহিরুল ইসলাম আরও বলেন, 'রংপুর বিভাগীয় হিসাবরক্ষন কর্মকর্তার বরাবরে ঘুষ লেনদেন অভিযোগ করি। ঘুষের বিষয়ে অভিযোগে তদন্ত হলেও শেরিকুজ্জামান অজ্ঞাত কারণে এখনো বহালতবিয়ত ছিলেন আর অডিটর মজিবর রহমান কে বদলি করা হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'দীর্ঘদিন উপায়ন্তর পেয়ে হরিপুর উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতির নিকট ঘুষের লেনদেন এর বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। ইতঃপূর্বে হরিপুর হিসাবরক্ষণ অফিসে অবৈধ ঘুষ লেনদেনের খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। হরিপুর দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মহোদয় দূদক ঠাকুরগাঁও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। এর প্রেক্ষিতে জেলা দূর্নীতি কমিশনের একটি টিম প্রায়ই নজর রাখছিলো এই অফিসের উপর।'
দুদক ঠাকুরগাঁও সমন্বিত কার্য্যলয়ের উপপরিচালক আজমির শরিফ মারজী বলেন, 'হরিপুর উপজেলা ১নং গেদুরা ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে নৈশ্যপ্রহরী আবদুল হামিদ সদ্য অবসর জনিত ফাইল হিসাবরক্ষণ অফিসারের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়, এই স্বাক্ষর করার জন্য আঃ হামিদ এর নিকট ত্রিশ হাজার টাকা দাবি করলে ২২ হাজার টাকা রফা হয়। তক্ষুনি ১৭০০০ হাজার টাকা হয় আর বাকি টাকা যখনই দিবে তখনই প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর করে দিতে চায়। সমূদয় টাকা না দেওয়ার কারনে কাগজ স্বাক্ষর প্রদানে টালবাহানা শুরু করে। আবদুল হামিদ (১৭-৩-২০২৫) তারিখে বাকি টাকা দিতে গেলে ঘুষ লেনদেনের সময় হাতেনাতে দূূদক টিমে জালে ধরা পরে শেরিকুজ্জামান ও অডিটর হান্নান।'