
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের রমনা বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের এক সদস্যকে লাঞ্চিতের অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের রমনা বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ছাবেদ আলী মন্ডল ওই বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সদস্য মোছাঃ মাহমুদা বেগমকে লাঞ্ছিত করেন।
মাহমুদা বেগমের দাবি, প্রধান শিক্ষিকের অন্যায় কাজে সর্মথন না দেওয়ায় প্রধান শিক্ষক ছাবেদ আলী মন্ডল আমার বাসার সামনে রাস্তায় আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। সেদিন প্রধান শিক্ষক হঠাৎ আমার বাসার সামনে হোন্ডা থামিয়ে আমাকে বলে আমি এজন্য তোমাক গভর্ণিং বডির সদস্য করেছি। আমার পক্ষে কথা না বলে কমিটির পক্ষে কথা কও। তুমি কি হয়েগেছ। তোমাকে দেখে নিবো। মাহমুদা বেগম আরো বলেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের গত মাসিক মিটিংয়ে সিলিপের ২২ হাজার টাকা খরচের বিষয়ে কথা উঠলে আমি কোন খাদে কত টাকা খরচ হয়েছে তা জানতে চাই। প্রধান শিক্ষক সিলিপের ২২হাজার টাকার জায়গায় ২৫ হাজার টাকার খরচের হিসাব দেখান। তাতে আমি সমর্থন না দিয়ে বলি এগুলোতো খরচ হয়নি। আর ২২ হাজার টাকার মধ্যে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয় কিভাবে। তার পরেরদিন আমার বাসার সামনে এসে আমাকে লাঞ্চিত করেন। এবিষয়ে সভাপতিকে তৎক্ষনাত বিষয়টি জানালে তিনি মাসিক মিটিংয়ে বিষয়টি তুলে ধরতে বলেন। বিষয়টি সভাপতি সাহেব ও এলাকার মানুষের উপস্থিতিতে উপস্থাপন করলে তিনি তা স্বীকার করেন। এসময় স্থানীয় সাংবাদিক মিজান বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও মাঠ ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রধান শিক্ষকের করনীয় নিয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক ছাবেদ আলী মন্ডল তার উপর তেরে আসে এবং দেখে নেয়ার হুমকি দেন।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সোহরাব হোসেন বলেন, ‘গতকাল বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের মাসিক মিটিং ছিলো। আমি বিষয়টি আগেই অবহিত হয়েছিলাম। সে অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক ছাবেদ আলী মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে সে ঘটনার স্বীকার করেন। এসময় বিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়ে কথা আসলে স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। এসময় স্থানীয় সাংবাদিক মিজানুর রহমান মিজান তার অনিয়মের কথা তুলে ধরলে ছাবেদ আলী মন্ডল তার উপর চড়াও হন এবং গালিগালাজ করেন। যা খুবই দুঃখ জনক। বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ও সার্বিক উন্নয়নের জন্য এই প্রধান শিক্ষককে অন্য স্থানে ট্রান্সফারের জন্য আমি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। তারা ব্যবস্থা নিবেন।
স্থানীয় সাংবাদিক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, নানা অনিয়মে ভরা রমনা বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। যার কারনে শিক্ষার মান খুবই খারাপ। গতকাল মাসিক মিটিংয়ে বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতির আমন্ত্রনে আমরা স্থানীয় কয়েকজন যুবক সেখানে উপস্থিত হই। মিটিংয়ে বিদ্যালয়ের ৩২টি জানালা হারিয়ে গেছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক। এসময় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মাহমুদা বেগম প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাকে লাঞ্চিতের অভিযোগ করেন। এসম আমি বিদ্যালয়ের মাঠ ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রধান শিক্ষকের করনীয় নিয়ে কথা বলা মাত্রই প্রধান শিক্ষক আমার উপর চড়াও হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ও আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন।