
নিহারেন্দু চক্রবর্তী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অর্জন করে তার দ্বিতীয় স্বাধীনতা।
কিন্তু এই পরিবর্তনের বছর না যেতেই পাল্টে গেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের এক রাজনৈতিক নেতার পরিচয় ও দল।
গোকর্ণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৬৩ নম্বর সদস্য মো. সাহাজাহান মাষ্টার হঠাৎই নিজের নাম পরিবর্তন করে হয়ে যান মাওলানা আমির আলি। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়ে নাম লেখান বিএনপির সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলে। নতুন দলে তিনি পেয়েছিলেন উপজেলা ওলামা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ।
তবে নাম ও পরিচয় বদলে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে যাত্রা শুরু করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনা জানাজানি হলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১ জুন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা বিষয়টি তদন্ত করে এবং সংগঠনের আদর্শ, নীতি ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় সাহাজাহান মাষ্টার ওরফে মাওলানা আমির আলিকে সংগঠনের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।
জেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা মো. আল-আমিন ও সদস্য সচিব মাওলানা কাজি মো. ইয়াহইয়া মাছউদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,
“বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল একটি আদর্শ ভিত্তিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠন। সংগঠনের স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৩১ মে একটি কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল, নাসিরনগর উপজেলা শাখা’।
কিন্তু শুরুর আগেই নেতৃবৃন্দকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলো একটি নেতার অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস এবং অসঙ্গত কর্মকাণ্ডের কারণে।