
রংপুরের পীরগাছায় অন্তর চন্দ্র দাস (২২) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পীরগাছা সরকারি কলেজের পিছনে পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত অন্তর চন্দ্র দাস নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার শিব মন্দির পাড়ার সুকুমার চন্দ্র দাসের ছেলে। তবে বর্তমানে তার পরিবার পীরগাছা সরকারি কলেজের পিছনে পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামে বসবাস করছেন। নিহত অন্তর পীরগাছা বাজারের একটি ওষুধ ফার্মেসীর কর্মচারী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর চন্দ্র দাস তিন মাস আগে মিঠাপুকুর উপজেলার কাকন নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। ঘটনার দিন তার স্ত্রী বাবার বাড়ি মিঠাপুকুরে ছিলেন। অন্তর ওই দিন মোবাইলে অনলাইন জুয়া খেলে প্রায় ৮-৯ হাজার টাকা হারেন। বিষয়টি নিয়ে রাত ১০টার দিকে তার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়। এরপর স্ত্রীর প্রতি অভিমান করে রাত আড়াইটার মধ্যে কোন এক সময় নিজের ঘরে মোবাইলে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে লুঙ্গি দিয়ে ঘরের তীরের সাথে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
নিহতের পরিবার জানায়, রাত আড়াইটার দিকে মৃতের ভগ্নিপতি সুজন চন্দ্র দাস ও মা রত্না রানী দাস তার ঘরে জোরে গান বাজতে দেখে তা বন্ধ করতে ঘরের দরজায় ধাক্কা দেন এবং গান বন্ধ করতে বলেন। এ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঢুকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে মরদেহ নামিয়ে পীরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, মোবাইলে ক্যাসিনো খেলে তার অনেক টাকা ঋণ হয়েছিল। এর আগে তিনি আরও ২ টি বিয়ে করেছিলেন।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া কালবেলাকে জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।