
রংপুরের পীরগাছায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় চোখ হারাতে বসেছেন বিএনপির এক নেতা। ভুক্তভোগী ওই নেতার নাম সানোয়ার হোসেন। তিনি উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়ন বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক। বর্তমানে তিনি জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করছেন আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাকর্মীরা তার উপর এই হামলা করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে সেখানকার নুর ইসলাম মন্ডলের পরিবার ও সরকার পরিবারের বিরোধ চলছে। গত মে-জুন মাসে কয়েক দফায় তাদের মধ্যে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে অন্ততঃ ৫ টি মামলা হয়েছে। গত ২৯ জুন দুপুরে এসব নিয়ে ওই গ্রামে শালিসি বৈঠক বসে। বৈঠকের মধ্যেই উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ইট পাটকেল ছুড়াছুঁড়ি ও মারামারিতে বিএনপির ওই নেতাসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে বিএনপি নেতা সানোয়ার হোসেনকে প্রথমে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। তবে তার চোখের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে রেফার্ড করা হয়।
ভূক্তভোগী ওই বিএনপি নেতার বড় ভাই আবু তালেবের দাবি, নুর ইসলাম মন্ডল কৈকুড়ি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য, তার ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম মিলন সাধারন সম্পাদক। ওই মন্ডল পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। পক্ষান্তরে সানোয়ারের পরিবার সবাই বিএনপির রাজনীতি করে। আওয়ামী লীগের পতনের পর জমি জমার বিরোধকে ইস্যু করে আওয়ামী লীগের লোকজন তার ভাইয়ের উপর হামলা করেছে। এ ঘটনায় তার ভাইয়ের একটি চোখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি এর সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন।
মণ্ডল পরিবারের কায়সার আলম জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৩১ মে প্রতিপক্ষরা তার ভাতিজা মনিরুল ইসলামের বাড়ি ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় মনিরুল মামলা করেছেন। আসামিরা জামিন বের হয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয় এবং গালিগালাজ করে। গত ২৯ জুন তার চাচা সারোয়ার হোসেন ও ভাই মিঠু মিয়াকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষরা হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মিঠু মিয়া মারাত্মক জখম হন এবং লোহার রড়ের আঘাতে সারোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশিদ বাবুল জানান, মন্ডল পরিবারের অনেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও জমি-জমা নিয়েই মূলত তাদের মধ্যে দ্বন্দ-বিরোধ। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।
পীরগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাহিদ হোসেন বলেন, উভয়পক্ষের মামলা হয়েছে। এখনো কেউ ধরা পড়েনি। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।