
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আশরাফুল হক হলে সম্প্রতি ঘটে গেছে একাধিক চুরির ঘটনা। আবাসিক শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন চুরি হওয়ায় হলজুড়ে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। হঠাৎ করে এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
হলের শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, 'গত ১৯ আগস্ট হলের ২৪২/ঙ রুম থেকে চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থীর ভিভো ওয়াই২১ মডেলের একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। একই দিনে পাশের রুম ২৪১/ঙ এর অন্য এক শিক্ষার্থীর মানি ব্যাগ থেকে টাকা চুরি হয়েছে। এর আগে আরও কয়েকটি রুম থেকে টাকা হারানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা বেড়ে গেছে।
চোরের বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী ধারণা প্রকাশ করে বলেন, 'চোর হলের বাইরে কেউ হবে। স্থানীয় কিছু ছেলেদের হলের দেয়াল টপকিয়ে ভিতরে আসতে দেখা যায়। তারা হলের গাছ থেকে ডাব, সুপারি চুরি করে। যেহেতু জানালার পাশ থেকে চুরি হচ্ছে। হলের সামনে থেকে ঢুকে বা রুমে ঢুকে কেউ চুরি করবে না। গত ৫/৬ বছরে হলের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেনি। রাতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জানালা খোলা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। চোর গ্রিলের ফাঁক দিয়ে হাত ঢুকিয়ে জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে।'
মোবাইল চুরি হওয়া ভুক্তভুগী ভেটেনারী অনুষদ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম ইসলাম জয় বলেন, 'গত ৫/৬ দিন আগে রুম থেকে আমার ভিভো ওয়াই২১ মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায় । রাতে আড়াইটা নাগাদ চার্জ দিয়ে ঘুমিয়েছিল কিন্তু সকালে উঠে দেখি মোবাইল ফোনটি নেই। পরবর্তীতে হল প্রশাসন এর কাছে জানানো হলে তারা সিসি ক্যামেরাতে চেক করে বাইরের কেউ এসেছিল কিনা এবং পুলিশ এর কাছে জিডি করতে বলে। এছাড়া তারা আর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। হলে সম্প্রতি চুরির কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এমন নিরাপত্তাহীন অবস্থা থেকে উত্তরণে হলের চারিদিকে আরো কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। গার্ডের সংখ্যাও বাড়াতে হবে তাহলে এরকম দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে।'
অন্য এক ভুক্তভুগী শিক্ষার্থী বলেন, 'গত ১৯ আগষ্ট আমি সকালে নাস্তা করতে যেয়ে খেয়াল করি যে আমার ওয়ালেট থেকে প্রায় ২৩০০ টাকা নেই। পরবর্তীতে আমার রুমে এসে খেয়াল করলাম জানালার পাশে বুকশেলফ টি জানালার দিকে কিছুটা টেনে রাখা। এটা দেখেই বুঝলাম কেউ বুকশেলফটি জানালার দিকে টেনে নিয়ে আমার ওয়ালেট থেকে টাকা নিয়েছে । এটা আসলে খুবই দুঃখজনক ও উদ্বেগের বিষয়। আমি গত ৪ বছরের এমন কিছু দেখিনি। হল প্রশাসনের কাছে অনুরোধ এই সংক্রান্ত সমস্যার গুলো যেন খুব তাড়াতাড়ি সমাধান করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কর্মরত গার্ডরা আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।'
চুরির বিষয়ে আশরাফুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আলম মিয়া বলেন, 'গত ১৯ আগস্ট আশরাফুল হক হলে কয়েকজন শিক্ষার্থীর ফোন ও টাকার চুরির ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি। ধারণা করছি চোর বহিরাগত কেউ হবে। যেহেতু রাতে ঘটেছে আবার জানালার পাশ থেকেই ঘটেছে। হলের সামনের দিকের সিসিটিভির চেক করে সন্দেহভাজন পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীদের সহযোগিতায় হল প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। একজনের ফোন চুরি হয়েছে আমাকে জানালে আমি তাকে জিডি করতে বলি।'
তিনি আরও বলেন, 'এই হলে সিসিটিভির সংখ্যা কম, পুরা হল সিসিটিভির আওতায় নেই। এছাড়া দিন-রাতের হলের নিরাপত্তা গার্ডের সংখ্যাও অপ্রতুল। চুরির ঘটনা রোধে হলের চতুর্দিক সিসিটিভির আওতাভুক্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ইতোমধ্যেই বিষয়টি জানানো হয়েছে। অতি দ্রুত বাড়তি সিসিটিভি স্থাপন ও নিরাপত্তা জোরদারের ব্যবস্থা করা হবে।'