ঘটনা ১: গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচন হয়ে গেল কয়েক মাস আগে। একজন ভোটার হিসেবে আমি অনেক ফোন কল ও মেসেজ পেয়েছি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে সবচেয়ে বিরক্ত লেগেছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে একাধিক নেতার ফোন দিয়ে বারবার বিরক্ত করা। শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কল রিসিভ করা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। একজন প্রার্থীর পক্ষে একাধিক নেতা ফোন করেছিলেন।
ঘটনা ২: দু'মাস আগে গাইবান্ধা ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের নির্বাচনে আমি প্রচার সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছিলাম। লম্বা ভোটার তালিকা দেখে আমি কিছুটা হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। এত মানুষকে কীভাবে ম্যানেজ করব, তা মাথায় আসছিল না। তারপরেও যেহেতু আমি প্রার্থী, অন্তত একবার তো ভোট চাওয়া উচিত। কয়েকজনকে ভোট চাওয়ার জন্য ফোন দিলাম এবং নিজের পরিচয় দিয়ে ভোট চাইলাম। তাদের কণ্ঠস্বর শুনে মনে হলো, তারা বিরক্ত হচ্ছেন। কে কোন পরিস্থিতিতে আছেন, তা আমার পক্ষে বোঝা কঠিন ছিল।
আমি এরপর ফোন করা বন্ধ করে দিয়ে বিকল্প পরিকল্পনা সাজালাম। সব ভোটারের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জারে একটি করে পোস্টার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। পাশাপাশি, ফেসবুক গ্রুপ ও নিজের টাইমলাইনে বিভিন্ন পোস্টার দিয়ে প্রচার চালালাম। আমার উদ্দেশ্য ছিল এতটাই প্রচার চালানো যেন ভোটারদের মনে সাইকোলজিক্যালি গেঁথে যায় যে 'প্রচার সম্পাদক মানেই মাইক মার্কা'। আলহামদুলিল্লাহ, আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা এবং আমজাদ ভাইয়ের সহযোগিতায় আমি নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলাম।
আমরা অনেকেই অপরিচিত নম্বরের ফোন কলে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না, আর ভোটের জন্য এসব আরও বেশি বিরক্তিকর। ধরা যাক, ডাকসুতে যদি ১০০ জন প্রার্থী থাকেন এবং তাদের প্রত্যেকের জন্য একজন করে প্রতিনিধিও একজন ভোটারকে ফোন করে, তাহলে সেই ভোটারের কাছে প্রায় ২০০টি কল আসবে।
যেসব প্রার্থী এই কাজটি করছেন, তারা নিজেরাই নিজেকে একবার প্রশ্ন করুন তো - এতগুলো কল এলে আপনি কি বিরক্ত হতেন না?
শুধুমাত্র প্রচার করলেই বা ভোট চাইলেই কেউ আপনাকে ভোট দেবে না। আপনি যদি ভোটারের মানসিকতা বুঝতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেন, তবেই আপনি সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পারবেন।
Sazzadur Rahman | Gaibandha | September 6