
নীলফামারীতে মানবাধিকার সংগঠনের নামে ভুতুড়ে তদন্ত রিপোর্টের কারণে মামলায় ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার ডিমলা উপজেলার ২নং বালাপাড়া ইউনিয়নের উত্তর সুন্দরখাতা গ্রামে। ওই এলাকার মতিয়ার রহমান ও রবীন্দ্রনাথ রায় রবির সাথে জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন থেকে। এই বিরোধের জের ধরে মতিয়ার রহমান ও মানবাধিকার সংগঠনের ও স্থানীয় প্রভাবশালী নারী নেত্রী জাহানারা বেগম, তার স্বামী রবিউল আলম, তার মেয়ে জামাই সিরাজুল ইসলাম সিরাজদের যোগসাজসে মিথ্যা মামলায় ভোগান্তির শিকার রবীন্দ্রনাথ রায় ও তার পরিবারের সদস্যরা।
জানা যায়,‘গত ২০১৮ সালের ২০ মে মতিয়ার রহমান একই এলাকার রবীন্দ্রনাথ রায় ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বাড়ী পোড়ানোর মামলা দেয়। ‘হিউম্যান রাইটস এন্ড ইনভাইরোমেন্ট ডেভলোপমেন্ট সোসাইটি (হিডস)’ নামে মানবাধিকার সংগঠনের প্যাডে এই মামলার একটি তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেন ওই মানবাধিকার সংগঠনের জেলার সমন্বয়ক এবং সিআর: ১৩৮/২০১৯ইং মামলায় মানিত ৫নং স্বাক্ষী স্থানীয় প্রভাবশালী নারী নেত্রী জাহানারা বেগম। এই ভুতুড়ে তদন্ত রিপোর্টের ফলে ভোগান্তির শিকার রবীন্দ্রনাথ রায় ও তার পরিবারের সদস্যরা।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান,‘দীর্ঘদিন থেকে মতিয়ার রহমান ও রবীন্দ্রনাথ রায়ের সাথে ৮০ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের রেশ ধরে মতিয়ার রহমান ও জাহানারা বেগম এবং তার স্বামী রবিউল আলম, এবং তার জামাই সিরাজুল ইসলাম সিরাজদের যোগসাজসে মতিয়ার রহমান নিজেদের পরিত্যাক্ত রান্না ঘরে নিজেরাই আগুন জ্বালিয়ে রবীন্দ্রনাথ রায় ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে আদালতে মিথ্যা মামলা দেয়। আর মানবাধিকার সংগঠনের নামে এই মামলার একটি ভুতুরে তদন্ত রিপোর্ট দেয় জাহানারা বেগম, তার স্বামী রবিউল আলম এবং তার মেয়ে জামাই সিরাজুল ইসলাম সিরাজ । আর এই নামমাত্র মানবাধিকার সংগঠনের জেলার কর্ণধার একা নিজেই জাহানারা বেগম, তার স্বামী রবিউল আলম এবং তার মেয়ে জামাই রংপুর বিভাগের চিফ কোর্ডিনেটর সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।’
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রবীন্দ্রনাথ রায় অভিযোগ করে বলেন,‘একটি ভুতুড়ে মানবাধিকার সংগঠন যেটির নাম কারো জানা নেই। সেই সংগঠনের জেলার দায়িত্বে জাহানারা ও বিভাগের দায়িত্বে তার আপন জামাই সিরাজুল ইসলাম। শাশুড়ি জামাই মিলে মতিয়ার রহমানের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে একটি মিথ্যা তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করে। আর এই তদন্ত রিপোর্ট দেখে আদালত এই মামলা (মামলা নং-সি.আর-১৩৮/১৯ ডিমলা) আমলে নেয়। এটি একটি মিথ্যা মামলা যে সময়ের কথা বলা হয়েছে ওই সময়ে আমরা বাড়ীতে ছিলাম না। যার কারণে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা মামলার জন্য প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছি।’ এছাড়াও জাহানারা এবং তার স্বামীর নামে জিআর:১/২০২৩, ১৬৭/২০২২, ৯১/২০২২, এবং পিটিশন নং ১৫১/২০২৩, ৩৯/২০২৩ সহ বহু মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে মর্মে এলাকাবাসী এই প্রতিবেদককে জানান।
মামলার তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করার ক্ষমতা সম্পর্কে জানার জন্য ‘হিউম্যান রাইটস এন্ড ইনভাইরোমেন্ট ডেভলোপমেন্ট সোসাইটি (হিডস)’ এর চেয়ারম্যান এ্যাড. আব্দুল মান্নানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান,‘ মামলার তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করার ক্ষমতা আমাদের মধ্যে নেই। হ্যা যদি আদালত মামলার তদন্ত করার আদেশ প্রদান করে তাহলে ‘হিডস’ মামলার তদন্ত করতে পারবে। আর জাহানারা আগে নীলফামারী জেলার ‘হিডস’ এর সমন্বয়ক ছিল এখন নেই। সে কি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে আমার জানা নেই।’
মামলার তদন্ত করার আদেশ আদালত প্রদান করেছে কি না এ বিষয়ে আদালতে খোজ নিয়ে জানা যায় এমন কোনো আদেশ দেয় নি আদালত। এমনকি আদালত আদেশ না দেওয়ার ব্যাপারে জাহানারা বেগম নিজেও স্বীকার করেন। এ বিষয়ে জাহানারা বেগম বলেন,‘আদালত আমাকে তদন্ত করার আদেশ দেয় নি। আমাদের অভিযোগ দিলে আমরা মানবাধিকার কর্মী এরকম মামলার তদন্ত রিপোর্ট দিয়েই থাকি। সেরকম মতিয়ার অভিযোগ দেয় আমাদের আমরা সত্যতা পেয়েছি তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছি। এখন আর মানবাধিকার নিয়ে কাজ করি না।’
এ বিষয়ে কথা হয় মামলা প্রদানকারী ব্যক্তি মতিয়ার রহমানের সাথে তিনি বলেন,‘রবিন্দ্রনাথ আমার বাসায় আগুন লাগিয়ে দেয়। জাহানারা আপা ও স্থানীয়দের পরামর্শে আমি তাদের নামে আদালতে মামলা দেই।’
জাহানারা বেগমকে অভিযোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন,‘আমি এমনি এসে জাহানারা আপাকে বিষয়টি মৌখিক জানাই। তাকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেই।