
শরীয়তপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে চলমান বাণিজ্য মেলা বন্ধ অথবা অন্যত্র সরানোর দাবিতে জেলা প্রশাসককে জনস্বার্থে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন ঢাকা জজ কোর্টের
অ্যাডভোকেট মুহাঃ মুস্তাফিজুর রহমান।সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ডাকযোগে এই নোটিশ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং শরীয়তপুর সদর পৌরসভার প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শরীয়তপুর শিল্পকলা একাডেমির মাঠে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই স্থানটি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল, শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শিশু পার্ক এবং শিল্পকলা একাডেমির খুব কাছে অবস্থিত। প্রধান সড়কের ওপর হওয়ায় এমনিতেই এখানে যানজট লেগে থাকে, যা পদ্মা সেতু চালুর পর আরও বেড়েছে।অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান তার নোটিশে বলেন, মেলার কারণে মূল সড়কে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীবাহী গাড়ি আটকে থাকছে, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মেলার কারণে অনৈতিক কার্যকলাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান জানান, মেলা শুরুর আগেই বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন জনদুর্ভোগের আশঙ্কা জানিয়ে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছিল, তারপরও মেলা অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) সুদীপ্ত ঘোষ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ঢাকার প্রতিষ্ঠান ‘নিউ স্টাইল মার্কেটিং’-কে ২১ আগস্ট থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেলা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম বলেন, “আমার কাছে এখনও কোনো লিগ্যাল নোটিশ পৌঁছেনি।’’গত রোববার তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আমি আগে জানতাম না যে মেলার কারণে এত যানজট সৃষ্টি হবে। যদি জানতাম, তবে অনুমতি দিতাম না। ভবিষ্যতে সেখানে আর মেলার অনুমতি দেওয়া হবে না।”অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান আরও জানান, ভবিষ্যতে আইনি পদক্ষেপের জন্য এই লিগ্যাল নোটিশের অনুলিপি সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।