
সততা, আন্তরিকতা ও মানবিকতাকে অবলম্বন করে কুড়িগ্রামে দায়িত্ব পালন করে মানুষের আস্থা জয় করেছিলেন পুলিশ সুপার (এসপি) মাহফুজুর রহমান। তাঁর হঠাৎ বদলির খবরে জেলার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
কুড়িগ্রামে যোগদানের পরপরই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ জেলা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে কোনো বেআইনি চাপ, অন্যায় আবদার বা প্রভাবকে গুরুত্ব না দিয়ে, ছিলেন নীতিতে অবিচল। তাঁর সততা ও দায়িত্ববোধের কারণে তিনি দ্রুতই মানুষের আস্থা অর্জন করেন।
জেলার ১১টি থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তিনি প্রশাসনিক দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন—এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য,
“এসপি স্যার একটুও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি সৎ, নীতিবান এবং মানবিক একজন অফিসার।”
পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগেও তিনি ছিলেন ভদ্র, যুক্তিবাদী ও সহজ-সরল পরিমিত আচরণের মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের মেধাবী ছাত্র হিসেবে তাঁর শৈক্ষিক পরিচয়ও অনেকের কাছে বাড়তি অনুপ্রেরণার জায়গা তৈরি করেছিল।
বদলির সংবাদে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করে তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেছেন।
সবাই আশা করছেন—যেখানেই দায়িত্ব পান না কেন, তাঁর সততা, নীতি ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।
এসপি মাহফুজুর রহমান ও তাঁর পরিবারের জন্য শুভকামনা ও দোয়া জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষসহ তাঁর সহকর্মীরা। তাঁরা মনে করেন—অভিন্ন নীতি, দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠার জন্য তিনি দীর্ঘদিন মানুষের স্মৃতিতে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।