
সারাদেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ন্যায় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও দাবি আদায়ে স্বতস্ফূর্তভাবে রাজপথে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি, মূল ভূমিকায় ছিলেন তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি রেজওয়ানুল হক, এমনটাই মন্তব্য করেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (হাবিপ্রবিসাস) সাধারণ সম্পাদক মোঃ তানভীর হোসাইন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এসব কথা তুলে ধরেছেন। তার সেই ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো- "আমরা সর্বোচ্চ মিডিয়া কাভারেজ দিবো, আর শিবির তাদের জনশক্তি দিবে। এভাবেই শুরু হয় আন্দোলন। এমনকি আমাদের ইন্সট্রমেন্টও তারা দিতে চেয়েছে। ১৫ই জুলাই রাতে শিবিরের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ হয়। হলে থাকা অনেক ছেলেরাই শহরে এবং বাঁশেরহাটের মেসে চলে গেছে। ছাত্রলীগের সংখ্যাও কমে আসছে। ১৬ই জুলাই ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস ছাড়া করার পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামে শিবির। ক্যাম্পাসে শিবিরের জনশক্তির পরিমাণ ব্যাপক। সারারাত ইট ভাঙে আর লাঠি তৈরি করে, সব রাখা হয় মহাবলীপুর।"
"শিবির অপেক্ষা করছিল ছাত্রলীগ তাদেরকে একবার ধাওয়া দিবে, আর তারপরেই শুরু হবে তাদের পদক্ষেপ নেওয়া। এরমধ্যে যুক্ত হয় ফয়সাল মোশতাক ভাই। পুলিশকে উপেক্ষা করেই সামনে দিকে এগিয়ে আসে। এর একটু আগেই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় আমার মাইক্রোফোন ছিড়ে যায়। আর পায়ে আঘাত লাগে। হায়দার আলী জয়নাল আবেদীন মীর ও প্রচন্ড আঘাত পায়। এই সময়টায় রাফিউল হুদা এবং কামরুল হাসান একদম কাছে থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করে।"
"তখন লিচু বাগানে ছিলাম আমি আর যোবায়ের ইবনে আলী ভাই। রাফিউল আর কামরুল একদিকে হোয়াটসআ্যাপে ফুটেজ পাঠায় আর আমি অন্যদিকে পেইজে আপলোড এবং বিভিন্ন মিডিয়াতে পাঠাই। এমন সময় ছাত্রলীগের এক কর্মী রড হাতে এসে থ্রেট করে যদি রাফিউলকে সাংবাদিক সমিতি থেকে না সরানো হয় তাহলে ঝামেলা করবে। এর আগের দিন জিয়া হলে রাফিউলকে আটকে রাখা হয়। ১৭ই জুলাই ক্যাম্পাস প্রায় খালি। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও ক্যাম্পাসে নেই। যাওয়ার আগে মিঠু ভাই বলে গেল তানভীর তুমি আমাদের ভিলেন বানিয়ে দিলা। হোয়াটসআ্যাপের সেই কথপোকথন এখনও আছে। ১৭ই জুলাই মোঃ সুজন ইসলামকে সামনে রেখে কফিন মিছিল করে শিবির। অন্যান্যদেরকে সামনে রেখে, শিবির এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে। চাইলেও তো এই সত্য লুকিয়ে রাখা যাবে না।"