
প্রফেসর ড. সাদেকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিভাগের পিয়নের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে প্রফেসর ফারুক হাসান তাকে দেখা করতে বলেছেন। তিনি ফারুক হাসানের চেম্বারে গেলে সেখানে উপস্থিত না থাকায় বেরিয়ে আসার সময় ফারুক হাসান তাকে নিয়ে পুনরায় চেম্বারে প্রবেশ করেন।
“চেয়ারে বসতেই আমাকে রিমান্ডের মতো জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়,” বলেন সাদিকুর রহমান। “মিটিং কেন ডেকেছি, তাকে কেন ডাকিনি—এসব নিয়ে তিনি আগ্রাসীভাবে প্রশ্ন করতে থাকেন। আমি রুম থেকে বের হতে চাইলে তিনি ছিটকিনি লাগিয়ে দেন এবং আমার ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির সময় আমার হাত কেটে যায়, ফোন ভেঙে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “চেম্বারে তখন আরও দুই শিক্ষক—অতিয়া শাহীন ও রায়হান সজিব—উপস্থিত ছিলেন। আমি একা, তারা তিনজন। আতিয়া সরে যেতে অনুরোধ করলেও তিনি সহযোগিতা করেননি। দরজার ছিটকিনি খুলে মুখ বের করে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করি। পাশের পরীক্ষার হল থেকে অনেকে ছুটে আসে।”
অন্যদিকে, প্রফেসর ড. ফারুক হাসান বলেন, “আমরা তিনজন শিক্ষক রুমে বসে ছিলাম। আমাদের বাদ দিয়ে বিভাগীয় মিটিং হয়েছে। সাদিকুর রহমান রুমে ঢুকে এমন ভঙ্গিতে কথা বলেন যেন আমাকে মারবেন। তিনি ফোন হাতে ছিলেন, রেকর্ডিং করছিলেন কি না জানতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে টেবিলের মগ-পিরিচ ছুঁড়ে মারেন। আমার টেবিলের কাঁচ ভেঙে যায়, আমি অল্পের জন্য রক্ষা পাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ডিপার্টমেন্টের মান সম্মানের কথা ভেবে বিষয়টি বাড়াইনি। উনার হাত কিভাবে কেটেছে জানি না, তবে ধস্তাধস্তিতে আমার হাতেও ব্যথা পেয়েছি।”
কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. মনিরুজ্জামান বাহাদুর বলেন, “দুপুর আড়াইটার দিকে ঘটনা শুনেছি। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অভিযোগের কন্টেন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রফেসর ড. ফারুক হাসানের বিরুদ্ধে পূর্বেও অশালীন ও অশোভন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। ২০০৫ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্রদের সামনে অশালীন বক্তব্য প্রদান করেন, যার ফলে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিভাগের স্টাফরা বাথরুমে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
এছাড়াও ছাত্রদের সঙ্গে দূরব্যবহার, ফেল করানোর হুমকি, সহকর্মীদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যানের ‘দাঁড়ি ছিঁড়ে ফেলা’ ও ‘প্যান্ট খুলে ফেলার’ হুমকি এবং সিনিয়র শিক্ষক ড. সাইফুল হুদাকে খুনের হুমকি দিয়ে থানায় জিডি করার ঘটনাও নথিভুক্ত রয়েছে।
প্রফেসর ড. ফারুক হাসান শিক্ষক সংগঠন ইউট্যাব হাবিপ্রবির সাধারণ সম্পাদক, বিএনসিসির প্রফেসর আন্ডার অফিসার (পিইউও) এবং কৃষক সেবার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, প্রফেসর ড. সাদেকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং আওয়ামী লীগ আমলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।