দেশ সংযোগ

রাঙামাটির চাঞ্চল্যকর মিথ্যা নারী- শিশু মামলার বাদী ও ভিকটিম কারাগারে

 
রাঙামাটির চাঞ্চল্যকর মিথ্যা নারী- শিশু মামলার বাদী ও ভিকটিম কারাগারে জনসংযোগ

আরিফুল ইসলাম সিকদার, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

আজ ১৩ই নভেম্বর রোজ সোমবার রাঙামাটি পার্বত্যজেলার বরকল উপজেলাধীন ভুষনছড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও বরকল উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো মামুনর রশিদ মামুনকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০/(সংশোধিত ২০০৩)এর ৯(১) ধারায় হওয়া মামলার রায়ের ওপড় ভিত্তি করে ১৭ ধারায় দায়েরকৃত মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামী বাদী মো নাসির হাওলাদার ও ভিকটিম নাসরিন আক্তারকে গ্রেফতার করেছেন চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭।

উল্লেখ্য বিগত ২৪/০৬/২০২০ইং তারিখে বরকল থানায় জৈনেক মোঃ নাসির হাওলাদার নামক একজন ব্যক্তি তার মেয়ে নাসরিনকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামুন চেয়ারম্যানকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালত কর্তৃক একাধিকবার উক্ত বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করার সাপেক্ষে ভিকটিম নাসরিন ও তার নবজাতক সন্তান এবং চেয়ারম্যান মামুনের ডিএনএ পরীক্ষার করানো হয় এবং উক্ত ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মামুন চেয়ারম্যান প্রতিবারই নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। উক্ত মামলাটি প্রথমে বরকল থানার এসআই মোঃ আজগর হোসেন কতৃক তদন্ত করা হয়।তার কতৃক প্রেরিত তদন্ত রিপোর্টে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে নাসির হাওলাদার উক্ত পুলিশ তদন্তে নারাজি দাখিল করলে এএসপি মোহাম্মদ আউয়াল চৌধুরীকে আদালত পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। উক্ত তদন্তেও মামুন নির্দোষ প্রমাণ হয়।তবে রিপোর্ট আদালতে উপস্থাপন করা হলে নাসির হলাদার পুনরায় মামলা নারাজি দেয়। এবার আদালত পিবিআই চট্টগ্রামকে মামলাটি হস্তান্তর করেন। পিবিআই চট্টগ্রামের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আবু হানিফ কতৃক মামলাটি পুনরায় তদন্ত ও ডিএনএ করানো হয়। সেখানেও তদন্তেও মামুন নির্দোষ প্রমাণীত হয়েছেন। এরপরেও পুনরায় নাসির হাওলাদার আদালতে নারাজি দাখিল করলে আদালত একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পুনরায় ডিএনএ টেস্ট ও তদন্তের নির্দেশ দেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় মামুন চেয়ারম্যানসহ উক্ত ভিকটিম নাসরিন ও তাঁর সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয় এবং রাঙ্গামাটির দায়িত্বরত সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক স্বপন কুমার নাথ কতৃক আরো একটি তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। সর্বশেষ দেয়া সেই রিপোর্টেও মামুন চেয়ারম্যান নির্দোষ প্রমাণীত হয়েছেন।এছাড়া ভিকটিমের সাথে মামুন চেয়ারম্যানের ফোনালাপ সংক্রান্ত তথ্য মোবাইল ফোনের সিসিডিআর পর্যালোচনা করে কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তাগন।

পুলিশ কর্তৃক আদালতে দাখিলকৃত তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে আরো জানা যায়, মামুন চেয়ারম্যানকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার করার উদ্দেশ্যে তাকে মামলা আসামি করার পেছনে অনেক গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। এর নেপথ্যে কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায় বরকল উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় পদ পাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুটি গ্রুপ সক্রিয় হয়ে ওঠে। যার একটি গ্রুপ বাঁদিকে ম্যানেজ করে চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে মামলাটি করার পেছনে ভূমিকা রাখে। তদন্ত রিপোর্টের প্রাপ্ত তালিকা হতে জানা যায় আলমগীর হোসেন পিতা হারুনুর রশিদ, সাইফুল ইসলাম মনির পিতা আব্দুর রহমান, মোহাম্মদ শাহিন আলম পিতা মৃত মনির উদ্দিন, সায়রা বেগম স্বামী গোলাম নবী, এমাদুল হক পিতা খলিল, জাফর ইকবাল পিতা আবুল কালাম, মোতালেব হোসেন পিতা আব্দুল হাকিমসহ আরো কিছু ব্যক্তিদ্বয় বাঁদিকে প্ররোচনা দিয়ে উক্ত মামলাটি করিয়েছেন।

যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কর্তৃক বিগত ২৩শে মে উক্ত মামলার রায়ে আসামি মামুনকে নির্দোষ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন রাঙ্গামাটি নারী শিশু আদালত। এসময় আদালত কর্তৃক উক্ত মামলার বাদী ও ভিকটিমের বিরুদ্ধে ১৭ ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

উক্ত ধারায় মো মামুন মামলা করায় বিষয়টি আমলে নিয়ে বাদী ও ভিকটিমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা দায়ের করেন রাঙামাটি নারী শিশু ট্রাইব্যুনাল।

এ বিষয়ে আসামী পক্ষের আইনজীবী মোক্তার হোসেন ও শফিউল আলম মিয়ার সাথে কথা বললে তারা জানান,এটি একটি অত্র আদালতের জন্য একটি যুগান্তকারী রায় ছিলো।এই রায়ের ফলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অপব্যবহার কমে যাবে।মামুনকে বেখসুর খালাস দিয়েছিলেন বিজ্ঞ আদালত এবং এই মিথ্যা মামলার বাদী ও ভিকটিমের বিরুদ্ধে ১৭ ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করেছিলেন রাঙ্গামাটির নারী-শিশু ট্রাইব্যুনাল।সেই আইনেই অবশেষে বাদী ও ভিকটমের বিরুদ্ধে বিচারকার্য পরিচালিত হবে।আশা করছি দোষী ব্যাক্তিরা তাদের অপরাধের যথাযত সাজা পাবে।

ইউপি চেয়ারম্যান মো মামুনর রশিদ মামুন জানান,মহান আল্লাহর রহমতে সত্যের জয় হয়েছে।বিজ্ঞ আদালত আমাকে নির্দোষ প্রমান করে রায় দিয়েছিলেন।পরবর্তীতে উক্ত মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে আমি আদালতে ১৭ ধারায় মামলা করেছি।আমি বিজ্ঞ আদালতের নিকট উক্ত মামলার বাদী ও ভিকটিমসহ জড়িত অন্যান্যদের সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করছি।

এ বিষয়ে র‌্যাব৭ সুত্র জানায়, বাংলাদেশ আমার অহংকার এই স্লোগান নিয়ে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে জোড়ালো ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাব সৃষ্টিকাল থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম অস্ত্রধারী সস্ত্রাসী, ডাকাত, ধর্ষক, দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী ও প্রতারকদের গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করায় সাধারণ জনগনের মনে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।উক্ত কর্মসূচীর আওয়তায় পলাতক মো নাসির ও তার মেয়ে নাসিরনকে গ্রেফতার করার জন্য অভিযান পরিচালা করা হয় এবং দুজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

বরকল থানার কর্মরত এস আই মো উজ্জ্বল জানান,উক্ত গ্রেফতারকৃত আসামীদের জেল হাজতে প্রেরন করা হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

 
Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker