৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবির ৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনায় ‘সোচ্চার’ সংগঠনের নিন্দা

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০২:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৪৬
ইবির ৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনায় ‘সোচ্চার’ সংগঠনের নিন্দা

মাশুক এলাহী,ইবি প্রতিনিধি:ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে বাস ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঁচজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সোচ্চার স্টুডেন্ট’স নেটওয়ার্ক। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান সংগঠনটি।

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইবি শাখার সহ-দপ্তর সম্পাদক জাকিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাহাত ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শিবলু এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাস ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য এবং তিন শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করেছে। আমাদের বিবেচনায় এই শাস্তি তুলনামূলকভাবে অতিরিক্ত, কঠোর এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ন্যায়নীতির পরিপন্থী।

তারা উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—যেখানে সংশোধন, শিক্ষাদান ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত মূলনীতি। শিক্ষার্থীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শাস্তির ধরণ হওয়া উচিত শিক্ষামূলক এবং পুনর্বাসনমূলক; কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, যা মানবাধিকারের মৌলিক চেতনারও পরিপন্থী।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় কখনোই ভয়, আতঙ্ক ও দমননীতির জায়গা হতে পারে না; বরং এটি হওয়া উচিত গণতান্ত্রিক, ন্যায়সংগত ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশের প্রতীক। কোনো শিক্ষার্থীর ভুল বা অপরাধের দায়ে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

অতঃপর সোচ্চার স্টুডেন্ট’স নেটওয়ার্ক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানায়। একইসাথে শিক্ষার্থীদের প্রতি পুনর্বাসনমূলক ও শিক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়সংগত সমাধান করতে আহ্বান জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, বাস ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল পাঁচ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন—এক বছরের জন্য বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নাজিম (২০১৯-২০) ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সায়েম (২০২১-২২)। আর ছয় মাসের জন্য বহিষ্কৃতরা হলেন— মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল মান্নান লুমান(২১-২২), সৈয়দ সাজিদ হোসেন(২১-২২) ও তাকবির হাসান হৃদয় (২০২১-২২)।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ইবির ৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনায় ‘সোচ্চার’ সংগঠনের নিন্দা

সময়: ০২:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ইবির ৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনায় ‘সোচ্চার’ সংগঠনের নিন্দামাশুক এলাহী,ইবি প্রতিনিধি:ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে বাস ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঁচজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সোচ্চার স্টুডেন্ট’স নেটওয়ার্ক। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান সংগঠনটি। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইবি শাখার সহ-দপ্তর সম্পাদক জাকিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাহাত ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শিবলু এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাস ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য এবং তিন শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করেছে। আমাদের বিবেচনায় এই শাস্তি তুলনামূলকভাবে অতিরিক্ত, কঠোর এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ন্যায়নীতির পরিপন্থী। তারা উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—যেখানে সংশোধন, শিক্ষাদান ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত মূলনীতি। শিক্ষার্থীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শাস্তির ধরণ হওয়া উচিত শিক্ষামূলক এবং পুনর্বাসনমূলক; কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, যা মানবাধিকারের মৌলিক চেতনারও পরিপন্থী। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় কখনোই ভয়, আতঙ্ক ও দমননীতির জায়গা হতে পারে না; বরং এটি হওয়া উচিত গণতান্ত্রিক, ন্যায়সংগত ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশের প্রতীক। কোনো শিক্ষার্থীর ভুল বা অপরাধের দায়ে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। অতঃপর সোচ্চার স্টুডেন্ট’স নেটওয়ার্ক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানায়। একইসাথে শিক্ষার্থীদের প্রতি পুনর্বাসনমূলক ও শিক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়সংগত সমাধান করতে আহ্বান জানানো হয়। প্রসঙ্গত, বাস ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল পাঁচ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন—এক বছরের জন্য বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার নাজিম (২০১৯-২০) ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সায়েম (২০২১-২২)। আর ছয় মাসের জন্য বহিষ্কৃতরা হলেন— মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল মান্নান লুমান(২১-২২), সৈয়দ সাজিদ হোসেন(২১-২২) ও তাকবির হাসান হৃদয় (২০২১-২২)।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.