ইবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, চাকরিচ্যুত দাবি শিক্ষার্থীদের
- সময়: ০৩:০৮:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ অক্টোবর ২০২৪
- / ৪৬

ইবি প্রতিনিধিঃ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ। সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলনে নেমেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনে শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্লোগান শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেইন গেটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা।
এসময় শিক্ষার্থীরা দফা এক দাবী এক, হাফিজের পদত্যাগ; হাফিজের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে; স্বৈরাচারের দোসর, হাফিজ হাফিজ; হাফিজকে হটাও, ডিএস বাঁচাও; হাফিজের ঠিকানা, ডিএস এ হবে না ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের একদল প্রতিনিধি প্রশাসন ভবনের কনফারেন্স কক্ষে বসে উপাচার্য বরাবর দাবিদাওয়া উত্থাপন করে।
শিক্ষার্থী লামিয়া বলেন, স্যার ক্লাসে এসে কী বা কী বলে অপমান করবে সেই ভয়ে কাটাতে হয়েছে। আমি কী ড্রেস পড়লাম, কোথায় গেলাম, কার সাথে ঘুরলাম, কোন বাসে ঢাকা গেলাম সেসব কৈফিয়ত দিতে হয় আমাকে। আমাকে সবার সামনে বলছে যে আমাকে ফ্যানে ঝুলিয়ে পেটাবে। যে স্যারের গুণগান গায় সে ইন্টার্নাল মার্কে পায় ২৭, আমি পাই ১৭। আমি বৃষ্টিতে ভিজে চা খাইলে সে বলে আমি নাকি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেছি৷ সে একজন শিক্ষক হয়ে সে সবার সামনে মেয়েদের গালি দেয়। আমি হাফিজের পদত্যাগ চাই, সে শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা রাখে না।
অপর শিক্ষার্থী অনন্যা রহমান বলেন, বাপ মা তুলে গালি দেওয়া স্যারের আগের অভ্যাস। যারা নাচ করি তাদের নর্তকী, বাকিদের বাজারের মেয়ে এগুলো বলেছে। আমাদের সামনে আমাদের ফ্রেন্ডদের বলেছে এসব কাস্টমমার ধরার ধান্দা৷ আমি আবার বন্ধুর সাথে কোথায় বসব না বসব, সেসব নিয়ে সে কুরুচিপূর্ণ কথা শুনিয়েছেন। সে আমাকে হেনস্তা করার জন্য ১০০ পেজের এসাইনমেন্ট করিয়েছে অথচ জমা নেয়নি। তার জঘন্য অপমানের ভাষা বলে শেষ হবে না।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার বিভাগের শিক্ষার্থীরা যেসব অভিযোগ তুলেছে সেগুলো সত্য হলে অবশ্যই প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু যেকোন বিষয়ের একটা পদ্ধতি আছে। আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল নিয়ে উপাচার্যের সাথে আলোচনা করার সুযোগ করে দিয়েছি।
এবিষয়ে প্রশাসন ভবনের কনফারেন্স রুমে শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া শুনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের সকল অভিযোগ আমরা শুনেছি, এবিষয়ে খুব দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে উক্ত কমিটির মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.














