উলিপুরে জোড়পূর্বক জমি দখল, কুপিয়ে জখম ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ
- সময়: ০২:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ৪০

স্টাফ রিপোর্টার কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌর শহরের মধ্যপাড়া এলাকায় পারিবারিক জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষ, নারী সদস্যদের ওপর হামলা, আহত ও পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জমি দখলের চেষ্টা ও সংঘর্ষ
ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক অভিযোগ করেন, তার বড় ভাই আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ধরে নিজের নামে থাকা বাড়ির সামনের একটি পুকুর জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। সম্প্রতি তিনি পুকুরটি ফেরত চাইলে মালেক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে গত ১৩ আগস্ট বিকেলে আব্দুল মালেক ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে এসে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করেন।
নারীসহ তিনজন গুরুতর আহত
অভিযোগে বলা হয়, ওইদিন বিকেলে খালেকের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়িতে না থাকায় সুযোগ বুঝে মালেক ও তার লোকজন জমিতে টিন দিয়ে বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় খালেকের স্ত্রী রওশন আরা বেগম ও দুই মেয়ে বাধা দিলে হামলার শিকার হন।
হামলায় ধারালো দা’য়ের কোপে রওশন আরা বেগমের মাথা ও মুখে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। বড় মেয়ে খাদিজা আক্তারের হাত ভেঙে যায় এবং ছোট মেয়ে সালমা বেগমের কোলে থাকা মাত্র ১৮ মাস বয়সী শিশুও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এছাড়া সালমা বেগম শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মামলা ও পাল্টা মামলা
এ ঘটনায় আব্দুল খালেক বাদী হয়ে উলিপুর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা আসামিকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: ২৩/১৯৪)। অপরদিকে, আব্দুল মালেকের স্ত্রী নাজমা বেগম কুড়িগ্রাম আদালতের মাধ্যমে পাল্টা মামলা দায়ের করেন, যেখানে ভুক্তভোগী পরিবারের ৯ জন সদস্যকে আসামি করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পাল্টা মামলায় এমন অনেককে স্বাক্ষী করা হয়েছে যারা ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিতই ছিলেন না।
স্বাক্ষীরা জানেন না তারা স্বাক্ষী!
মামলার ১, ২ ও ৩ নম্বর স্বাক্ষী যথাক্রমে তাইজুল ইসলাম, আব্দুর রহিম ও শিমুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তারা ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং বিষয়টি সম্পর্কেও কিছু জানেন না।
তাইজুল ইসলাম বলেন,
“আমি তখন বাজারে ছিলাম। পরে শুনি রওশন আরার মেয়েকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। অথচ আমাকে মামলার স্বাক্ষী বানানো হয়েছে।”
আব্দুর রহিম জানান,
“ঘটনার সময় আমি দোকানে ছিলাম। কিছুই জানি না। অথচ আমার নাম মামলায় জড়ানো হয়েছে।”
শিমুল ইসলাম বলেন,
“আমি তখন ঢাকায় ছিলাম। কিছুই জানি না। তবুও মামলায় আমার নাম দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে আব্দুল মালেক পলাতক থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি,
তবে অভিযুক্ত নাজমা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
পুলিশি তদন্ত অব্যাহত
উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান জানান,
“আব্দুল খালেকের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে ৬ জন নামীয় ও ১০-১২ জন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।”
তিনি আরও বলেন,
“অপরদিকে, আদালতের মাধ্যমে দায়ের করা মামলাটিও তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.














