উলিপুরে শিক্ষক সেলিমের ‘সাংবাদিকতা ও প্রভাব বিস্তার’ নিয়ে তীব্র বিতর্ক
- সময়: ১০:২১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
- / ৭৪

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় এক সরকারি শিক্ষকের বিতর্কিত আচরণ ও প্রভাব বিস্তারের ঘটনায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারশিপ না পেয়ে সরকারি তালিকা ছিঁড়ে ফেলার মতো গুরুতর ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছেন উপজেলার শান্তিপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমান সেলিম।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক সেলিম তার ছোট ভাইয়ের মালিকানাধীন ‘তরঙ্গ ট্রেডার্স’ এর পক্ষ থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারশিপে আবেদন করেন। তবে প্রাথমিক বাছাইয়ে আবেদনটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি কার্যালয়ে হাজির হন এবং বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা লুৎফর রহমানের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি সরকার অনুমোদিত প্রাথমিক তালিকাটি ছিঁড়ে ফেলেন।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে শিক্ষক সেলিম লিখিত মুচলেকা দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।
উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হাফিজুর রহমান সেলিম অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং সাংবাদিক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে সমালোচিত হয়েছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি স্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রতিনিধি পরিচয়ে সরকারী বিভিন্ন দপ্তর থেকে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করেন। এমনকি উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর থেকে বিজ্ঞাপন নিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া থেতরাই আব্দুল জব্বার কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনেক সময় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি করে চাঁদা দাবির কথাও উঠে এসেছে স্থানীয়দের মুখে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের গড়ার দায়িত্বে থাকা একজন শিক্ষক এ ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়লে তা সমাজের জন্য অশনি সংকেত। তারা শিক্ষক সেলিমের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা বলেন, “ডিলারশিপ বাছাইয়ে সরকারি নিয়ম অনুসরণ করা হয়। কেউ যদি আইনের বাইরে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকেও অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সচেতন মহলের দাবি, শিক্ষক হাফিজুর রহমান সেলিমের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ পেশাগত দায়িত্ব ভুলে ব্যক্তিগত স্বার্থে অনৈতিক কাজে লিপ্ত না হতে পারে।
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.




















