উলিপুর পৌর শহরে রাতের অন্ধকারে রড ছাড়া রাস্তার ঢালাই।
- সময়: ১০:২১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
- / ৬০

স্টাফ রিপোর্টার কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌর শহরে মাঝরাতে রড ছাড়াই আরসিসি (রেডিমিক্স) সড়ক ঢালাইয়ের অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিজেন্দ্র নাথ দেব (নারু) মাস্টারের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে পৌর কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের লোকজন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ২ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৬ টাকা ব্যয়ে ৬৭৫ মিটার দীর্ঘ আরসিসি রাস্তার নির্মাণকাজ চলছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স মোস্তফা সন্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের অভিযোগ, রড ছাড়াই রাতের আঁধারে ঢালাই করে নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মানে চরম অনিয়ম করা হয়েছে। এতে জড়িত রয়েছেন পৌরসভার কিছু অসাধু কর্মকর্তা।
এলাকার বাসিন্দা দেবাশীষ, রবি চক্রবর্তী, রন্টু সরকার, মঞ্জুরুল ও গৌতম পোদ্দার জানান, রাত ১২টার দিকে শ্রমিকরা রড ছাড়াই রাস্তা ঢালাই করছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা বাধা দিলে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে সড়ক থেকে রেডিমিক্স অপসারণ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, যেখানে রাস্তার ঢালাইয়ের পরিমাণ চার ইঞ্চি থাকার কথা, সেখানে আড়াই থেকে তিন ইঞ্চি ঢালাই হয়েছে। সিমেন্ট ও বালুর অনুপাতেও রয়েছে গড়মিল। ব্যবহার করা হয়েছে অপ্রতুল সিমেন্ট ও অতিরিক্ত বালু। সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো—২০ ফুট রাস্তা রড ছাড়াই ঢালাই করা হয়েছে।
এর আগে ওই একই প্রকল্পের ড্রেন নির্মাণেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
উপজেলা প্রকৌশল শাখার সহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া স্বীকার করেছেন, রড ছাড়া ঢালাইয়ের বিষয়টি অনুচিত হয়েছে। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং রেডিমিক্স ঢেলে দেওয়ার বিষয়টি সত্য। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি গোলাম রব্বানিও স্বীকার করেন, অতিরিক্ত রেডিমিক্স মাল থাকায় সেটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল, যা পরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নয়ন কুমার সাহা বলেন, “অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি শুনেছি, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, পুরো প্রকল্পের কাজ তদন্তপূর্বক পুনর্মূল্যায়ন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.




















