এতিম ও শীতার্ত মানুষের পাশে ইবির ‘বুনন’
- সময়: ০১:২৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
- / ৯৪

রবিউল, ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সামাজিক, সেচ্ছাসেবী, সৃজনশীল ও শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠন “বুনন” কর্তৃক এতিম শিশুদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছেন।
রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪ টার দিকে ইবি পার্শ্ববর্তী শ্রীরামপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং-এর প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এরই অংশ হিসেবে বুননের পক্ষ থেকে এতিম শিশুদের জন্য খাদ্য সামগ্রী হিসেবে দীর্ঘ সময় খাওয়ার জন্য চল, ডাল, তেল, আটা ও শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল ও তোষক দেওয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বুননের উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সদস্য ও ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: হেলাল উদ্দিন ও বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বুননের ২১-২২ কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাফি, ২২-২৩ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো শফিকুল আজম ভূঁইয়া আকাশ, এছাড়া বর্তমান কমিটির সভাপতি মো নাহিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক দীপ কুন্ডু ও অন্যান্য কার্যনির্বাহী সদস্যবৃন্দ।
এসময় অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, দু-এক বছর আগে কোনো একজন সদস্য এসে বলল যে আমাদের একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আছে, এখানে আপনাকে একটু রাখতে চাচ্ছি। তখন বললাম কাজটা কেমন? ফান্ড কিভাবে আসে? তখন ওরা বলল যে আমরা মানুষকে সাহায্য করি নিজের টিউশনির টাকা, রং তুলি, বিভিন্ন সাজসজ্জার টাকা দিয়ে। তারপর থেকে এদের সাথে পথচলা। আজকে আরও ভালো লাগতেছে, কারণ এতিমখানায় সহযোগিতা করতে পেরে। সবাই এতিম হয়ে যায় কিন্তু অসময়ে এতিম হওয়া কষ্টের। আমি কিন্তু আরবি লাইনে পড়িনি তবে এটা ধারণ করি যে কোনো বিপদ হলে প্রথমে আল্লাহর সহযোগিতা চাওয়া দরকার। আল্লাহ নিজ হাতে হয়তো দিয়ে দেয় না। তবে কোনো উসিলার মাধ্যমে দিয়ে দেয়। আজকে তেমনি আমার শিক্ষার্থীরা একটু পাশে দাড়িয়ে উসিলা হতে পারলো।
সহযোগী অধ্যাপক এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এখানে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরা যে আসছে, এই সহযোগিতা শুধু একাডেমিক না পারিবারিক জীবনেও কাজে লাগবে। এই এতিমখানার পরিচালকের সাথে কথা বলে বুঝতে পারছি এটা আসলে নগ্ন অবস্থায় ছিল। মৌলিক চাহিদা টুকুও পরিপূর্ণতা পায়নি। আমাদের আশেপাশে কোনো ব্যক্তি না খেয়ে থাকে তাহলে প্রতিবেশী হিসেবে কমবেশি দায়-দায়িত্ব আমাদের উপর বর্তায়। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে আসেনি, একমাত্র উদ্দেশ্য হলো মানবতার সেবা করা এবং সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্ট করা।
বর্তমান বুননের সভাপতি মো নাহিদুর রহমান বলেন, আমি নিজে একজন এতিম, আমার বাবা মারা গিয়েছেন ২২ বছর আগে। তাই আমি বুঝি একজন এতিমের কী কষ্ট। সেই আক্ষেপের জায়গা থেকে আমি সব সময়ই চেয়েছি এমন এতিম শিশুদের সাহায্য করার জন্য। আমাকে এই সাহায্য করার, সেবা করার সুযোগ করে দিয়েছে ‘বুনন’। এজন্য আমি বুননের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করি।
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.




















