ওএমএস দুর্নীতির প্রতিবেদন বনাম হলুদ সাংবাদিকতার সিন্ডিকেট
- সময়: ১২:১৯:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১১৫

সাম্প্রতিক সময়ে ওএমএস (OMS) কর্মসূচির দুর্নীতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে। অভিযোগকারী ওএমএস ডিলারের বরাত দিয়ে দেশের একাধিক অনলাইন পোর্টাল ও প্রিন্ট পত্রিকায় একই ধরনের কপি পেস্ট খবর প্রকাশ করেছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হলুদ সাংবাদিকতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ বলে প্রতীয়মান হয়। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশকারী সাংবাদিকরা কি সত্যিই চাঁদাবাজ ?
নাকি দুর্নীতিবাজদের মদদপুষ্ট একদল সংবাদকর্মী মূল ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং সৎ সাংবাদিকদের হেয় প্রতিপন্ন করতে মাঠে নেমেছে?
দুর্নীতির অভিযোগ এবং তার প্রতিক্রিয়া ওএমএস কর্মসূচির চাল, ডাল ও আটা কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে জাতীয় দৈনিক বর্তমান-এ দুই পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গত ২৭ শে আগস্ট প্রথম পর্বের শিরোনাম ছিল, “ওএমএস দুর্নীতির মহোৎসব: কতিপয় সরকারি কর্মকর্তা সিন্ডিকেটে গরিবের মাথায় হাত!” তারপর থেকে ওএমএস সুবিধাভোগীদের পক্ষথেকে সংবাদ প্রকাশে নিরুৎসাহিত করতে বর্তমান প্রতিনিধি শফিকুল বাশারকে বিভিন্ন প্রলোবন দেখিয়ে ব্যর্থ হয়।
বর্তমান প্রতিনিধি পুনরায় ৩রা সেপ্টেম্বর ওএমএস হরিলুটে সহায়তা মনিটরিং টিমের!” শিরোনামে প্রকাশিত দ্বিতীয় পর্বে উঠে আসে, “চাল, ডাল, আটা খাদ্যপণ্যের এক তৃতীয়াংশ কালোবাজারিতে মাসে গরিবের হক মেরে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ওএমএস সিন্ডিকেট চক্র।
এই প্রতিবেদনগুলোর পর দুর্নীতিবাজ চক্র যখন চাপের মুখে পড়ে, তখনই যেন ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। ১৫ ও১৬ ই সেপ্টেম্বর এরিয়া রেশনিং অফিসারের বিরুদ্ধে মহাপরিচালক ও প্রধান রেশনিং কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তারপরই, ওএমএস ডিলার মো.ইব্রাহিম (ইমন) দৈনিক বর্তমান পত্রিকার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পিতা পুত্রের চাঁদাবাজিতে হয়রানির অভিযোগ এনে মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যার কোন অস্তিত্ব নাই, তবে আমাদের অনুসন্ধানে জিডি নাম্বার পাওয়া যায়নি।
হলুদ সাংবাদিকতার নগ্নরূপ
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই জিডিকে কেন্দ্র করে ১৭ই সেপ্টেম্বর থেকে ১৯শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৯টি নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টাল ও প্রিন্ট পত্রিকায় প্রায় হুবহু একই খবর প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনগুলোর শিরোনাম ছিল প্রায় একই:
“হলুদ সাংবাদিকের আতঙ্কে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা: বাপ-বেটা মিলে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, থানায় অভিযোগ।”
“সাংবাদিকের দৌরাত্ম্য ও চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ী।”
“সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি: মোহাম্মদপুরে ‘হলুদ সাংবাদিক’ শফিকুলের বিরুদ্ধে জনতার অভিযোগ।”
প্রতিবেদনের মূল অংশে উল্লেখ করা হয় যে, অভিযুক্ত সাংবাদিক শফিকুল বাশার ও তার ছেলে আরমান হোসেন রাজীব ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন। এমনকি, তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও আনা হয়।
কিন্তু এই প্রতিবেদন গুলোর সবচেয়ে আপত্তিকর দিক হলো, এগুলো সম্পূর্ণরূপে একপেশে সাজানো ভিত্তিহীন । কোনো সাংবাদিকতার রীতিনীতি অনুসরণ না করে কেবল অভিযোগকারীর বক্তব্যকে ভিত্তি করে একই লেখা সকল গন মাধ্যমে শুধু কপি করে প্রচার করা হয়েছে। ৯টি প্রতিবেদনের কোনোটিতেই অভিযুক্ত সাংবাদিকের বক্তব্য নেওয়া হয়নি এবং যেহেতু পুলিশ প্রশাসনের বরাবরই অভিযোগ করা হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য নেওয়া হয়নি। এর থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায়, এটি কোনো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত মিথ্যা প্রচারণার সিন্ডিকেট।
প্রশ্নবিদ্ধ গণমাধ্যম এবং সিন্ডিকেটের উদ্দেশ্য
যেসব পোর্টাল এই খবরগুলো প্রকাশ করেছে—যেমন অপরাধ বিচিত্রা, দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি, যুগ যুগান্তর.কম, এনডিসি নিউজ বিডি, সিলেট নিউজ প্রিন্ট, এশিয়ান এক্সপ্রেস২৪.কম, সকালের সময়,
সময়ের কাগজ এগুলোর বেশিরভাগেরই নির্ভরযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। এই ধরনের সংবাদ মাধ্যমের মূল উদ্দেশ্য থাকে দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ এবং কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধি করতে পক্ষপাত দুষ্ট অবস্থান সৃষ্টি করা। নিজ ভুল বুঝতে পেরে ২২/০৯/২৫ ইং তারিখে স্বপ্রণোদিত হয়ে আমাদের মাতৃভূমিতে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন। এক্ষেত্রে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবেদনকারীকে হেয় প্রতিপন্ন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই তাদের মূল লক্ষ্য ।
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, কিছু সাংবাদিক নিজেদের ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীর স্বার্থে গণমাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তারা সত্য উদঘাটনের পরিবর্তে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে সাহায্য করছেন। সাংবাদিকতা যখন এ ধরনের দুর্নীতি ষড়যন্ত্রের অনিয়মকে জায়েজ করার জন্য ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তখন তা গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এই প্রচারনায় সরাসরি অংশ নেয় নামধারী সাংবাদিক বকুল( মাদক বিক্রেতাদের রক্ষক) থানায় আগত আসামীদের দালালি তার মুল পেশা। ফেইসবুকে দয়াল মুরশিদ নামে তার আইডি থেকে একেকটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন একাধিক বার উদ্দেশ্য মুলক পোষ্ট করতে দেখা যায়।
এই বিষয়ে ডিলার সিন্ডিকেট প্রধান এআরও রাহাতুল ইসলামের সহযোগী শফিকের সাথে ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপে কথা হলে তিনি বলেন : সরকারি অফিসাররা এতদিন তোমাদের তথ্য সংগ্রহ করে এই নিউজ গুলো করিয়েছে। তুমি বসো আমি একটা মিমাংসা করে দেই। শত্রুকে দূর্বল ভাবতে নেই। তারা আরো কঠিন সিদ্ধান্তে যাবে। লোক মাধ্যমে হুমকি দিচ্ছে ও এম এস এর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ কারীদের মানক্ষুন্ন করতে অপপ্রচারের লক্ষ্যে ২০ লক্ষ্য টাকা বাজেট করেছে।
শেষ পর্যন্ত, এই পরিস্থিতি আমাদের মনে একটি বড় প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে: প্রকৃত অপরাধ কি দুর্নীতির বিরুদ্ধে রিপোর্টকারী, নাকি দুর্নীতিবাজদের পক্ষে কাজ করা একদল হলুদ সাংবাদিক, যারা মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে সমাজকে বিভ্রান্ত করছে? এই ঘটনায় প্রশাসন যদি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে, তবেই প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে এবং গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা কিছুটা হলেও ফিরবে।
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.














