৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে আট বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে সেতু, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ১০:০৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৪৯
কুড়িগ্রামের উলিপুরে আট বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে সেতু, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার রসুলপুর–চুনিয়ারপার সড়কের একটি সেতু আট বছর ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও সেতুটি মেরামত বা পুনর্নির্মাণ না করায় শিক্ষার্থী, নারী, রোগী ও ব্যবসায়ীসহ কয়েক হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৮ সালের বন্যায় ভেঙে যাওয়া সেতুটি এখনো পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে উলিপুর, চিলমারী ও আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উলিপুর উপজেলা শহরের হাসপাতাল মোড় থেকে বড়ুয়া তবকপুর হয়ে রসুলপুর–চুনিয়ারপার মোড় পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মাণ করেছিল। সড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে বড়ুয়া তবকপুর বাজার সংলগ্ন স্থানে নির্মিত সেতুটি ২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ধসে পড়ে। এরপর থেকে সংযোগ সড়কটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সেখানে সৃষ্টি হয় বিশাল গর্ত।

বর্তমানে ওই সেতু-সংলগ্ন এলাকায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। প্রায় তিন কিলোমিটার পথ এখন মানুষকে হেঁটে বা বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে। উলিপুর প্রান্ত থেকে আসা যাত্রীরা কেউ ড্রামের ভেলা, কেউবা কৃষিজমির আইল ধরে অন্য প্রান্তে পারাপার হচ্ছেন। এতে প্রতিদিনই নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম ঝুঁকি ও দুর্ভোগে।

তবকপুর এলাকার শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন,
“যখন পানি বেশি থাকে, তখন ভয় লাগে কখন যে পানিতে পড়ে যাই। মাঝে মাঝে স্কুলেই যেতে পারি না।”
স্থানীয় গৃহবধূ রাহেনা বেগম (৫৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“সেতুটা কয়েক বছর ধইরাই এইভাবে ভাঙা পড়ে আছে। গর্ভবতী বা অসুস্থ কাউরে নেওয়া যায় না। অনেক কষ্টে যেতে হয় হাসপাতালে। হামার সেতুটা ঠিক কইরা দেয় না ক্যান?”
অটোচালক আমিনুল ইসলাম (৭০) বলেন,
“আট বছর ধইরা সেতু ভাঙা পড়ে আছে। রোগী নিয়া অ্যাম্বুলেন্সও আসতে পারে না। এখন ১০-১৫ কিলোমিটার ঘুরে হাসপাতালে নিতে হয়। এই কষ্ট কবে শেষ হইবো আল্লাহই জানে।”
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন,
“এই সড়ক দিয়ে তবকপুর, থানাহাট, রানীগঞ্জসহ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত করে। ২০১৮ সালে ভেঙে যাওয়ার পর বহুবার তদবির করেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। শিশুরা ড্রামের ভেলায় ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়— এটাই বাস্তবতা।”

উলিপুর উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বলেন,

“সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।”
এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ— প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বৃহত্তর এলাকার মানুষ।

স্থানীয়দের একটাই দাবি—
“আমাদের সেতুটা যেন দ্রুত মেরামত বা পুনর্নির্মাণ করা হয়।”


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

কুড়িগ্রামের উলিপুরে আট বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে সেতু, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

সময়: ১০:০৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
কুড়িগ্রামের উলিপুরে আট বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে সেতু, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসীকুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার রসুলপুর–চুনিয়ারপার সড়কের একটি সেতু আট বছর ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও সেতুটি মেরামত বা পুনর্নির্মাণ না করায় শিক্ষার্থী, নারী, রোগী ও ব্যবসায়ীসহ কয়েক হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৮ সালের বন্যায় ভেঙে যাওয়া সেতুটি এখনো পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে উলিপুর, চিলমারী ও আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উলিপুর উপজেলা শহরের হাসপাতাল মোড় থেকে বড়ুয়া তবকপুর হয়ে রসুলপুর–চুনিয়ারপার মোড় পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ পাকা সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মাণ করেছিল। সড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে বড়ুয়া তবকপুর বাজার সংলগ্ন স্থানে নির্মিত সেতুটি ২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ধসে পড়ে। এরপর থেকে সংযোগ সড়কটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সেখানে সৃষ্টি হয় বিশাল গর্ত। বর্তমানে ওই সেতু-সংলগ্ন এলাকায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। প্রায় তিন কিলোমিটার পথ এখন মানুষকে হেঁটে বা বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে। উলিপুর প্রান্ত থেকে আসা যাত্রীরা কেউ ড্রামের ভেলা, কেউবা কৃষিজমির আইল ধরে অন্য প্রান্তে পারাপার হচ্ছেন। এতে প্রতিদিনই নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম ঝুঁকি ও দুর্ভোগে। তবকপুর এলাকার শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, “যখন পানি বেশি থাকে, তখন ভয় লাগে কখন যে পানিতে পড়ে যাই। মাঝে মাঝে স্কুলেই যেতে পারি না।” স্থানীয় গৃহবধূ রাহেনা বেগম (৫৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সেতুটা কয়েক বছর ধইরাই এইভাবে ভাঙা পড়ে আছে। গর্ভবতী বা অসুস্থ কাউরে নেওয়া যায় না। অনেক কষ্টে যেতে হয় হাসপাতালে। হামার সেতুটা ঠিক কইরা দেয় না ক্যান?” অটোচালক আমিনুল ইসলাম (৭০) বলেন, “আট বছর ধইরা সেতু ভাঙা পড়ে আছে। রোগী নিয়া অ্যাম্বুলেন্সও আসতে পারে না। এখন ১০-১৫ কিলোমিটার ঘুরে হাসপাতালে নিতে হয়। এই কষ্ট কবে শেষ হইবো আল্লাহই জানে।” স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “এই সড়ক দিয়ে তবকপুর, থানাহাট, রানীগঞ্জসহ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত করে। ২০১৮ সালে ভেঙে যাওয়ার পর বহুবার তদবির করেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। শিশুরা ড্রামের ভেলায় ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়— এটাই বাস্তবতা।” উলিপুর উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বলেন, “সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।” এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ— প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বৃহত্তর এলাকার মানুষ। স্থানীয়দের একটাই দাবি— “আমাদের সেতুটা যেন দ্রুত মেরামত বা পুনর্নির্মাণ করা হয়।”

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.