৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুবির সমাবর্তনে আন্তর্জাতিক মানের বক্তা চায় শিক্ষার্থীরা

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ১১:৩০:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৩০২
কুবির সমাবর্তনে আন্তর্জাতিক মানের বক্তা চায় শিক্ষার্থীরা

কুবি প্রতিনিধি: ইউনুস সুজন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনে থাকছেন না বিশ্ববিদ্যালয় আচার্য ও রাষ্ট্রপতি। এছাড়াও থাকছে না কোনো আন্তর্জাতিক মানের বক্তা। এ খবরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ধরনের বড় আয়োজনে আচার্য ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন বক্তার উপস্থিতি না থাকা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তার অসম্মান।

 

জানা যায়, ২০০৬ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার  ১৬ বছর পর ২০২০ সালে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানিত হয়। এর পাঁচ বছর পর চলতি বছরের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় সমাবর্তন। প্রথম সমাবর্তনে আচার্য হিসেবে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেও এবার থাকছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান আচার্য। তার পরিবর্তে প্রতিনিধি হিসেবে সভাপতিত্ব করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। অন্যদিকে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফয়েজ।

তবে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমলোচানা। তাদের মতে, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানোর দৃষ্টান্ত রয়েছে। সে তুলনায় কুবির সমাবর্তনে আন্তর্জাতিক কোনো বক্তা না থাকা হতাশার। এছাড়াও তারা সমাবর্তনের সভাপতি হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতি চান।

পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৮-২০১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী আজাহার মোল্লা বলেন, ‘শিক্ষা জীবনের শেষ মুহূর্তে সমাবর্তন প্রতিটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকে। এমন একটি আয়োজনে আমরা প্রত্যাশা করি বিশিষ্ট গুনীজন অথবা দেশি-বিদেশি স্কলারের উপস্থিত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবনে এমন অনুষ্ঠান একবারই আসে। তাই এটাকে জীবনে উৎসাহ একটা মাধ্যম হিসাবে দেখা হয়। তাই আমরা   প্রধান উপদেষ্টা বা বিদেশের একজন একাডেমিশায়ান কে চাই। আগামী ৭ ডিসেম্বর ২য় সমাবর্তন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে এটা একটি ভালো উদ্যোগ কিন্তু আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে যেনো একজন ভালো মানের বক্তা উপস্থিত থাকে।’

 

নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-২০১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী মামুন মজুমদার বলেন, ‘একটা সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত একটা অনুষ্ঠান সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেন্সেলর রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিও সবাই প্রত্যাশা করে, তার পাশাপাশি সমাবর্তনে আন্তর্জাতিক মানের বক্তার উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। একজন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্ব তার অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার আলোকে আমাদের সামনে নতুন পথ দেখান। তার বক্তব্য আমাদের শেখায় কীভাবে শিক্ষা, গবেষণা, এবং সৃজনশীলতাকে বিশ্বমানের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়। একজন আন্তর্জাতিক বক্তা শুধু শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেন না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাকেও বিশ্ব অঙ্গনে উজ্জ্বল করে তোলেন। তার মাধ্যমে আমরা বৈশ্বিক সংযোগ, গবেষণার নতুন সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দরজা উন্মুক্ত করতে পারি।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৯-২০২০ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শোয়াইব হোসেন আলামিন বলেন, ‘একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা থাকে যে, ৮/১০ বছর পর যে সমাবর্তন হয় তাতে সম্মানের সাথে অংশগ্রহণ করতে এবং বের হতে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান যেহেতু রাষ্ট্রপতি সেহেতু তার থাকা উচিত, পাশাপাশি কোনো নোবেলজয়ী বা আন্তর্জাতিক স্কলারকে বিশ্ববিদ্যালয় যদি আনতে পারে সেটি আরও ভালো রেপুটেশন। বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যেহেতু নোবেলবিজয়ী, তাই আমরা তাকে প্রত্যাশা করি।

তিনি আরো বলেন, কনভোকেশনের জন্য যেহেতু ভিসিকে চাপ দেয়া হয়নি, তাই যাকে তাকে না এনে কনভোকেশনের মতো এতো বড় আয়োজনে রাষ্ট্রপতি বা আন্তর্জাতিক মানের স্কলারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা উচিত। কনভেনশনের মতো আয়োজনে আন্তর্জাতিক মানের কেউ নেই এটা একজন শিক্ষার্থী হিসেবে দৃষ্টিকটু লাগছে।

আইন বিভাগের ২০১৮-২০১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রেজাউনুল ইসলাম গণি বলেন, ‘আমাদের যখনই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়ন শেষ হয় তখন প্রত্যাকেরই একটা আশা থাকে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করা, আবার যারা গোল্ড মেডেলিস্ট তারা রাষ্ট্রপতির হাত থেকে মেডেল গ্রহন করা, কিন্তু আমরা দেখলাম যে  আমাদের ২য় সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি, প্রাইমমিনিস্টার বা কোন উপদেষ্টা আসতেছেনা, এজন্য অনেকের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনেক কমে যায়, অনেকে হয়ত আসতেও চাইবে না,  আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট আশা করবো  আমাদের এই সমাবর্তনে প্রধাণ উপদেষ্টা বা রাষ্টপতিকে দাওয়াত দেওয়া। ‘


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

কুবির সমাবর্তনে আন্তর্জাতিক মানের বক্তা চায় শিক্ষার্থীরা

সময়: ১১:৩০:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
কুবির সমাবর্তনে আন্তর্জাতিক মানের বক্তা চায় শিক্ষার্থীরাকুবি প্রতিনিধি: ইউনুস সুজন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনে থাকছেন না বিশ্ববিদ্যালয় আচার্য ও রাষ্ট্রপতি। এছাড়াও থাকছে না কোনো আন্তর্জাতিক মানের বক্তা। এ খবরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ধরনের বড় আয়োজনে আচার্য ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন বক্তার উপস্থিতি না থাকা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তার অসম্মান।   জানা যায়, ২০০৬ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার  ১৬ বছর পর ২০২০ সালে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানিত হয়। এর পাঁচ বছর পর চলতি বছরের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় সমাবর্তন। প্রথম সমাবর্তনে আচার্য হিসেবে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেও এবার থাকছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান আচার্য। তার পরিবর্তে প্রতিনিধি হিসেবে সভাপতিত্ব করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। অন্যদিকে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফয়েজ। তবে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমলোচানা। তাদের মতে, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানোর দৃষ্টান্ত রয়েছে। সে তুলনায় কুবির সমাবর্তনে আন্তর্জাতিক কোনো বক্তা না থাকা হতাশার। এছাড়াও তারা সমাবর্তনের সভাপতি হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতি চান। পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৮-২০১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী আজাহার মোল্লা বলেন, ‘শিক্ষা জীবনের শেষ মুহূর্তে সমাবর্তন প্রতিটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকে। এমন একটি আয়োজনে আমরা প্রত্যাশা করি বিশিষ্ট গুনীজন অথবা দেশি-বিদেশি স্কলারের উপস্থিত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবনে এমন অনুষ্ঠান একবারই আসে। তাই এটাকে জীবনে উৎসাহ একটা মাধ্যম হিসাবে দেখা হয়। তাই আমরা   প্রধান উপদেষ্টা বা বিদেশের একজন একাডেমিশায়ান কে চাই। আগামী ৭ ডিসেম্বর ২য় সমাবর্তন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে এটা একটি ভালো উদ্যোগ কিন্তু আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে যেনো একজন ভালো মানের বক্তা উপস্থিত থাকে।’   নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-২০১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী মামুন মজুমদার বলেন, ‘একটা সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত একটা অনুষ্ঠান সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেন্সেলর রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিও সবাই প্রত্যাশা করে, তার পাশাপাশি সমাবর্তনে আন্তর্জাতিক মানের বক্তার উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। একজন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্ব তার অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার আলোকে আমাদের সামনে নতুন পথ দেখান। তার বক্তব্য আমাদের শেখায় কীভাবে শিক্ষা, গবেষণা, এবং সৃজনশীলতাকে বিশ্বমানের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়। একজন আন্তর্জাতিক বক্তা শুধু শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেন না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাকেও বিশ্ব অঙ্গনে উজ্জ্বল করে তোলেন। তার মাধ্যমে আমরা বৈশ্বিক সংযোগ, গবেষণার নতুন সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দরজা উন্মুক্ত করতে পারি।’ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৯-২০২০ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শোয়াইব হোসেন আলামিন বলেন, ‘একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা থাকে যে, ৮/১০ বছর পর যে সমাবর্তন হয় তাতে সম্মানের সাথে অংশগ্রহণ করতে এবং বের হতে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান যেহেতু রাষ্ট্রপতি সেহেতু তার থাকা উচিত, পাশাপাশি কোনো নোবেলজয়ী বা আন্তর্জাতিক স্কলারকে বিশ্ববিদ্যালয় যদি আনতে পারে সেটি আরও ভালো রেপুটেশন। বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যেহেতু নোবেলবিজয়ী, তাই আমরা তাকে প্রত্যাশা করি। তিনি আরো বলেন, কনভোকেশনের জন্য যেহেতু ভিসিকে চাপ দেয়া হয়নি, তাই যাকে তাকে না এনে কনভোকেশনের মতো এতো বড় আয়োজনে রাষ্ট্রপতি বা আন্তর্জাতিক মানের স্কলারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা উচিত। কনভেনশনের মতো আয়োজনে আন্তর্জাতিক মানের কেউ নেই এটা একজন শিক্ষার্থী হিসেবে দৃষ্টিকটু লাগছে। আইন বিভাগের ২০১৮-২০১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রেজাউনুল ইসলাম গণি বলেন, ‘আমাদের যখনই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়ন শেষ হয় তখন প্রত্যাকেরই একটা আশা থাকে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করা, আবার যারা গোল্ড মেডেলিস্ট তারা রাষ্ট্রপতির হাত থেকে মেডেল গ্রহন করা, কিন্তু আমরা দেখলাম যে  আমাদের ২য় সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি, প্রাইমমিনিস্টার বা কোন উপদেষ্টা আসতেছেনা, এজন্য অনেকের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনেক কমে যায়, অনেকে হয়ত আসতেও চাইবে না,  আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট আশা করবো  আমাদের এই সমাবর্তনে প্রধাণ উপদেষ্টা বা রাষ্টপতিকে দাওয়াত দেওয়া। ‘

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.