কুষ্টিয়ায় তলিয়ে গেছে ফসলের খেত, ২৪ কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা
- সময়: ০৯:০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- / ৪০

নিম্নচাপের প্রভাবে হওয়া ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে পদ্মা নদী ফেঁপে উঠেছে। ইতোমধ্যে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের চার ইউনিয়নের চরের অন্তত ৩৪টি গ্রামের অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চরের ফসলের জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে ভাঙন ও বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, যাতায়াতের রাস্তা তলিয়ে যাওয়ার কারণে চিলমারী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। ঢলের পানিতে মরিচা, ফিলিপনগর, রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী এলাকার চরের ফসল ও আবাদি জমি ডুবে গেছে।
আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে নদীতে পানি বাড়লেও শেষের দিকে তা কমতে শুরু করে। কিন্তু সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফের পানি বাড়তে শুরু করেছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের চার ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের জমিতে চাষ করা মাষকলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মরিচ ও কলাসহ অন্যান্য সবজির ওপরেও এর প্রভাব পড়েছে। কৃষকরা অন্তত ২৪ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির শঙ্কা করছেন।
খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, মরিচা, ফিলিপনগর, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১ হাজার ৬২০ হেক্টর জমির মাষকলাই পানিতে ডুবে গেছে। এতে অন্তত ২৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া মরিচ ৭০ হেক্টর, কলা ৭৩ হেক্টর ও সবজি ১৩ হেক্টরের মতো পানিতে ডুবেছে, যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, ‘চরের মাষকলাইয়ের জমি সব ডুবে গেছে, এতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া মরিচ ও সবজির জমিতেও পানি উঠেছে।’ রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, ‘পদ্মার চরের প্রায় সব আবাদি জমি তলিয়ে গেছে, এতে মাষকলাই চাষিরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’
কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, ‘পদ্মায় পানি বাড়ার কারণে এখন পর্যন্ত চার ইউনিয়নের অন্তত ১০০ হেক্টর জমির শুধু কালাই ডুবে যাওয়ার খবর পেয়েছি। এবার চরে ২ হাজার ৩২৩ হেক্টর জমিতে কালাই চাষ করা হয়েছে। এ ছাড়া মরিচসহ অন্যান্য সবজির ক্ষতি হয়েছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, আপাতত আর পানি বাড়ার আশঙ্কা নেই। দু-এক দিন স্থিতিশীল থেকে পানি কমতে শুরু করবে। তিনি বলেন, পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ১২ দশমিক ৩৮ সেন্টিমিটার উচ্চতা দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ধরা হয়েছে ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার।
এদিকে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ায় চার ইউনিয়নের পদ্মার চরের অন্তত ৩৬টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চর এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের জানান, চরের কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে তা পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো এখনো স্বাভাবিক আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। আমরা পানিবন্দি হয়ে পড়া এলাকাগুলোর খোঁজ রাখছি।’
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.















