৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও চুল পড়ার সমস্যা? হতে পারে অ্যানিমিয়া!

রুশাইদ আহমেদ
  • সময়: ০১:০৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫
  • / ৮১
ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও চুল পড়ার সমস্যা? হতে পারে অ্যানিমিয়া!

রুশাইদ আহমেদ: আপনি কি সবসময় ক্লান্ত বোধ করছেন, মাথা ঘোরাচ্ছে কিংবা চুল পড়ে যাচ্ছে? এটি সাধারণ অবসাদের নয়, বরং হতে পারে অ্যানিমিয়ার লক্ষণ।

সম্প্রতি এই প্রসঙ্গে এক প্রতিবেদনে হিন্দুস্তান টাইমস বিস্তারিত আলাপ তুলে ধরেছে।

অ্যানিমিয়া কী এবং কেন হয়?

অ্যানিমিয়া হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায় বা লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যায়, ফলে শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে যথাযথ পরিমাণে অক্সিজেন পৌঁছায় না। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তিবোধ বা চুল পড়ার মতো জটিলতার সৃষ্টি হয়।

কেন হয় অ্যানিমিয়া?

ম্যানিপাল হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ওষুধ বিশেষজ্ঞ ডা. স্নেহা এস জানান, অ্যানিমিয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো আয়রনের অভাব। এটি হতে পারে অপুষ্টিজনিত কারণে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (যেমন ভারী মাসিক বা পাকস্থলীর আলসার), বা দেহের আয়রন শোষণের সমস্যার জন্য।

এছাড়া, ভিটামিন বি১২ ও ফলিক অ্যাসিডের অভাবও অ্যানিমিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যা বিশেষ করে অপুষ্টি, অন্ত্রের শোষণজনিত সমস্যা বা গর্ভাবস্থায় দেখা যায়।

কিছু ক্ষেত্রে, অ্যানিমিয়া জিনগত কারণে হতে পারে, যেমন থ্যালাসেমিয়া বা সিকেল সেল অ্যানিমিয়া। আবার, কিছু অটোইমিউন রোগের কারণে রক্তকণিকা দ্রুত ধ্বংস হয়ে গেলে হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া দেখা দিতে পারে। এমনকি, অতি বিরল কিছু ক্ষেত্রে অ্যানিমিয়ার কারণ হতে পারে অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া, যেখানে অস্থিমজ্জা পর্যাপ্ত রক্তকণিকা উৎপাদন করতে পারে না।

অ্যানিমিয়ার লক্ষণ কী?

অ্যানিমিয়ার সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

অবসাদ
মাথা ঘোরা
বুক ধড়ফড় করা
ক্ষুধামন্দা
শ্বাসকষ্ট
চুল পড়া

আয়রনের অভাবে বিশেষ লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমন অখাদ্য বস্তু খাওয়ার প্রবণতা (পিকা) বা নখের আকৃতি চামচের মতো হয়ে যাওয়া। আবার, ভিটামিন বি১২-এর অভাবে স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন হাত-পায়ে ঝিমঝিম করা বা অনুভূতি কমে যাওয়া।

পরীক্ষা ও চিকিৎসা:

ডা. স্নেহা জানান, অ্যানিমিয়া নির্ণয়ের জন্য বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে:

সম্পূর্ণ রক্ত পরীক্ষা (CBC)
পেরিফেরাল ব্লাড স্মিয়ার
সিরাম আয়রন স্টাডি
ভিটামিন বি১২ ও ফলিক অ্যাসিডের পরিমাণ নির্ণয়

চিকিৎসা নির্ভর করে অ্যানিমিয়ার কারণের ওপর। আয়রন ঘাটতির ক্ষেত্রে আয়রন সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়, ভিটামিন বি১২-এর অভাবে ইনজেকশন বা উচ্চ মাত্রার ওষুধ দেওয়া হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হতে পারে।

আপনার শরীরের সংকেত বুঝুন

যদি দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন, তবে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অ্যানিমিয়া সঠিকভাবে নির্ণয় ও চিকিৎসা করা হলে সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও চুল পড়ার সমস্যা? হতে পারে অ্যানিমিয়া!

সময়: ০১:০৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫
ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও চুল পড়ার সমস্যা? হতে পারে অ্যানিমিয়া!রুশাইদ আহমেদ: আপনি কি সবসময় ক্লান্ত বোধ করছেন, মাথা ঘোরাচ্ছে কিংবা চুল পড়ে যাচ্ছে? এটি সাধারণ অবসাদের নয়, বরং হতে পারে অ্যানিমিয়ার লক্ষণ। সম্প্রতি এই প্রসঙ্গে এক প্রতিবেদনে হিন্দুস্তান টাইমস বিস্তারিত আলাপ তুলে ধরেছে। অ্যানিমিয়া কী এবং কেন হয়? অ্যানিমিয়া হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায় বা লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যায়, ফলে শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে যথাযথ পরিমাণে অক্সিজেন পৌঁছায় না। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তিবোধ বা চুল পড়ার মতো জটিলতার সৃষ্টি হয়। কেন হয় অ্যানিমিয়া? ম্যানিপাল হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ওষুধ বিশেষজ্ঞ ডা. স্নেহা এস জানান, অ্যানিমিয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো আয়রনের অভাব। এটি হতে পারে অপুষ্টিজনিত কারণে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (যেমন ভারী মাসিক বা পাকস্থলীর আলসার), বা দেহের আয়রন শোষণের সমস্যার জন্য। এছাড়া, ভিটামিন বি১২ ও ফলিক অ্যাসিডের অভাবও অ্যানিমিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যা বিশেষ করে অপুষ্টি, অন্ত্রের শোষণজনিত সমস্যা বা গর্ভাবস্থায় দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে, অ্যানিমিয়া জিনগত কারণে হতে পারে, যেমন থ্যালাসেমিয়া বা সিকেল সেল অ্যানিমিয়া। আবার, কিছু অটোইমিউন রোগের কারণে রক্তকণিকা দ্রুত ধ্বংস হয়ে গেলে হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া দেখা দিতে পারে। এমনকি, অতি বিরল কিছু ক্ষেত্রে অ্যানিমিয়ার কারণ হতে পারে অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া, যেখানে অস্থিমজ্জা পর্যাপ্ত রক্তকণিকা উৎপাদন করতে পারে না। অ্যানিমিয়ার লক্ষণ কী? অ্যানিমিয়ার সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে: অবসাদ মাথা ঘোরা বুক ধড়ফড় করা ক্ষুধামন্দা শ্বাসকষ্ট চুল পড়া আয়রনের অভাবে বিশেষ লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমন অখাদ্য বস্তু খাওয়ার প্রবণতা (পিকা) বা নখের আকৃতি চামচের মতো হয়ে যাওয়া। আবার, ভিটামিন বি১২-এর অভাবে স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন হাত-পায়ে ঝিমঝিম করা বা অনুভূতি কমে যাওয়া। পরীক্ষা ও চিকিৎসা: ডা. স্নেহা জানান, অ্যানিমিয়া নির্ণয়ের জন্য বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে: সম্পূর্ণ রক্ত পরীক্ষা (CBC) পেরিফেরাল ব্লাড স্মিয়ার সিরাম আয়রন স্টাডি ভিটামিন বি১২ ও ফলিক অ্যাসিডের পরিমাণ নির্ণয় চিকিৎসা নির্ভর করে অ্যানিমিয়ার কারণের ওপর। আয়রন ঘাটতির ক্ষেত্রে আয়রন সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়, ভিটামিন বি১২-এর অভাবে ইনজেকশন বা উচ্চ মাত্রার ওষুধ দেওয়া হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হতে পারে। আপনার শরীরের সংকেত বুঝুন যদি দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন, তবে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অ্যানিমিয়া সঠিকভাবে নির্ণয় ও চিকিৎসা করা হলে সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.