৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গজারিয়ার নুরুজ্জামান ৪৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০৭:৫২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • / ৩২
গজারিয়ার নুরুজ্জামান ৪৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত

ওসমান গনি
স্টাফ রিপোর্টার
মুন্সিগঞ্জে গজারিয়া উপজেলা টেংগারচরের সন্তান মো. নুরুজ্জামান ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষায় ইতিহাস বিষয় থেকে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। প্রতিকূলতা আর সীমিত সুযোগ-সুবিধার মাঝেও নিজের কঠোর পরিশ্রম, মেধা আর দৃঢ় সংকল্প নিয়ে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন।

নুরুজ্জামান টেংগারচর ইউনিয়নের টেংগারচর গ্রামের মো. রুহুল আমিন মোল্লার বড় ছেলে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা ও আত্মউন্নয়নের প্রতি তার ছিলো গভীর আগ্রহ। ২০১২ সালে হোসেন্দী দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করে তিনি শিক্ষা জীবনের প্রথম ধাপ অতিক্রম করেন। এরপর ২০১৫ সালে বন্দর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেন।

সাধারণত গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ সহজ নয়। তবুও পরিবার ও নিজের চেষ্টা-পরিশ্রমে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান এবং সেখান থেকেই ইতিহাস বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

শুধু পড়াশোনাতেই নয়, চাকরি ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে তিনি এগিয়েছেন। প্রথমে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর জনতা ব্যাংকে অফিসার পদে এবং পরে অগ্রণী ব্যাংকেও অফিসার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তবে তার লক্ষ্য ছিল আরো বড় কিছু। সেই লক্ষ্যেই তিনি প্রস্তুতি চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত ৪৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুযোগ পেয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেন।

নিজের সাফল্যের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে নুরুজ্জামান জানান, “আমি একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছি। জীবন কখনো সহজ ছিল না। তবুও হার মানিনি। বাবা-মায়ের উৎসাহ, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা আর নিজের অটুট মনোবলই আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই সাফল্য শুধু আমার একার নয়, পুরো গজারিয়া এবং গ্রামের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি অনুপ্রেরণা। আমি চাই, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যেন বুঝতে পারে, ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো কিছু সম্ভব।”

নুরুজ্জামানের এই সাফল্যে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। গ্রামের অনেকে তাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রোল মডেল হিসেবে দেখছেন।

প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা এই শিক্ষকের দৃঢ়তা এবং কঠোর পরিশ্রম আজ প্রমাণ করেছে—সংগ্রাম কখনো বৃথা যায় না।


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

গজারিয়ার নুরুজ্জামান ৪৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত

সময়: ০৭:৫২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
গজারিয়ার নুরুজ্জামান ৪৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তওসমান গনি স্টাফ রিপোর্টার মুন্সিগঞ্জে গজারিয়া উপজেলা টেংগারচরের সন্তান মো. নুরুজ্জামান ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষায় ইতিহাস বিষয় থেকে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। প্রতিকূলতা আর সীমিত সুযোগ-সুবিধার মাঝেও নিজের কঠোর পরিশ্রম, মেধা আর দৃঢ় সংকল্প নিয়ে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন। নুরুজ্জামান টেংগারচর ইউনিয়নের টেংগারচর গ্রামের মো. রুহুল আমিন মোল্লার বড় ছেলে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা ও আত্মউন্নয়নের প্রতি তার ছিলো গভীর আগ্রহ। ২০১২ সালে হোসেন্দী দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করে তিনি শিক্ষা জীবনের প্রথম ধাপ অতিক্রম করেন। এরপর ২০১৫ সালে বন্দর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেন। সাধারণত গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ সহজ নয়। তবুও পরিবার ও নিজের চেষ্টা-পরিশ্রমে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান এবং সেখান থেকেই ইতিহাস বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। শুধু পড়াশোনাতেই নয়, চাকরি ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে তিনি এগিয়েছেন। প্রথমে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর জনতা ব্যাংকে অফিসার পদে এবং পরে অগ্রণী ব্যাংকেও অফিসার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তবে তার লক্ষ্য ছিল আরো বড় কিছু। সেই লক্ষ্যেই তিনি প্রস্তুতি চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত ৪৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুযোগ পেয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেন। নিজের সাফল্যের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে নুরুজ্জামান জানান, “আমি একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছি। জীবন কখনো সহজ ছিল না। তবুও হার মানিনি। বাবা-মায়ের উৎসাহ, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা আর নিজের অটুট মনোবলই আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।” তিনি আরও বলেন, “এই সাফল্য শুধু আমার একার নয়, পুরো গজারিয়া এবং গ্রামের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি অনুপ্রেরণা। আমি চাই, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যেন বুঝতে পারে, ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো কিছু সম্ভব।” নুরুজ্জামানের এই সাফল্যে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। গ্রামের অনেকে তাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রোল মডেল হিসেবে দেখছেন। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা এই শিক্ষকের দৃঢ়তা এবং কঠোর পরিশ্রম আজ প্রমাণ করেছে—সংগ্রাম কখনো বৃথা যায় না।

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.