৩৪ নর্থব্রক হলরোড সুত্রাপুর ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় নির্বাচনী সহিংসতা মামলায় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামীলীগ নেতাসহ ১১৯ কারাগারে

জনসংযোগ ডেস্ক
  • সময়: ০৪:৩৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ জুন ২০২৪
  • / ৩৩
গাইবান্ধায় নির্বাচনী সহিংসতা মামলায় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামীলীগ নেতাসহ ১১৯ কারাগারে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নির্বাচন সহিংসতা মামলায় উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও কোচাশহর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান মণ্ডলসহ ১১৯ জনের জামিন নামঞ্জুর করে করাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে (চৌকি আদালত) ১১৯ জন আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থণা করেন। পরে বিচারক মো. নাজমুল হাসান তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. মিজানুর রহমান মিজান জানান, আদালতে হাজাতী একজন ও ১১৮ জন স্ব-শরীরে হাজির হয়ে আইনজীবির মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক শুনানী শেষে তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো আদেশ দেন। অথচ ভোটের দিন সকাল ১১টায় ঘটনার কথা মামলার এজাহারে উল্লেখ থাকলেও কোন আলামতও জব্দ করা হয়নি। কিন্তু এসব বিষয় আমলে না নিয়ে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে আদালত।

মামলার বরাত দিয়ে এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান জানান, সহিংসতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে গোবিন্দগঞ্জ থানায় ২০৩/২৩ নং মামলাটি ২৫ মে রুজু করা হয়। মামলায় ঘটনার সময় ১১টা এবং তারিখ উল্লেখ আছে ২১ মে। অথাৎ ভোটের দিন এগারটায় মামলা, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে বাদি উল্লেখ করেন। অথচ মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে ভোটের দিন মোটরসাইকেল প্রতিকের পুলিং এজেন্ট ছিলেন ১৫ জন আর একজন মাদ্রাসার সুপার মোজাহারুল ইসলাম ছিলেন একটি কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে।

আদালতে শুনানী শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবি ভবেশ চন্দ্র বলেন, একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলায় আদালত ১১৯ জনের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের জেরেই বাদি শহিদুল ইসলাম উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে মামলাটি দায়ের করেন। আসামিদের জামিনে জজ আদালতে আবেদন করা হবে।

উল্লেখ, দ্বিতীয় ধাপে গত ২১ মে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ চলাকালে সকাল ১১টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পাড়া কচুয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের বসতবাড়িতে হামলা, মারপিট, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে গত ২৫ মে রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা একটি মামলা করেন। ২০৩/২৩ নং মামলায় ১৩৩ জন নামীয় আসামী হলেও একই আসামির নাম দুইবার হওয়ায় ১৩১ জন মুল ও অজ্ঞাত ১০০/২০০ জনকে আসামি করা হয়।এদের মধ্যে একজন আসামি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

কারাগারে পাঠানো উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজ খানুন, পৌর যুবলীগের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, উপজেলা কৃষকলীগের দপ্তর সম্পাদক বোরহান উদ্দিন লেলিন, উপজেলা যুবলীগের সদস্য জলিল, কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশাদুল ইসলাম, শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেন, শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রোকন আকন্দ। এছাড়া মামলার এজাহার নামীয় ২০ থেকে ২৫ জন (মোটরসাইকেল) প্রতিকের কর্মী-সমর্থক হলেও বাকি আসামি সকলেই আওয়ামীলী ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।বাদির অভিযোগ, উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আব্দুল লতিফ প্রধানের(মোটরসাইকেল) প্রতিকের কর্মীসমর্থক সংঘবদ্দ হয়ে তাহার বাড়িতে প্রবেশ করে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট, অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতিসাধণ ও ভয়ভীতি এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তার দুই কোটি পয়তাল্লিশ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে থানায় মামলা করে


Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

জনপ্রিয় ট্যাগ :

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

banner

এখানে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন

গাইবান্ধায় নির্বাচনী সহিংসতা মামলায় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামীলীগ নেতাসহ ১১৯ কারাগারে

সময়: ০৪:৩৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ জুন ২০২৪
গাইবান্ধায় নির্বাচনী সহিংসতা মামলায় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামীলীগ নেতাসহ ১১৯ কারাগারেগাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নির্বাচন সহিংসতা মামলায় উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও কোচাশহর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান মণ্ডলসহ ১১৯ জনের জামিন নামঞ্জুর করে করাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে (চৌকি আদালত) ১১৯ জন আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থণা করেন। পরে বিচারক মো. নাজমুল হাসান তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. মিজানুর রহমান মিজান জানান, আদালতে হাজাতী একজন ও ১১৮ জন স্ব-শরীরে হাজির হয়ে আইনজীবির মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক শুনানী শেষে তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো আদেশ দেন। অথচ ভোটের দিন সকাল ১১টায় ঘটনার কথা মামলার এজাহারে উল্লেখ থাকলেও কোন আলামতও জব্দ করা হয়নি। কিন্তু এসব বিষয় আমলে না নিয়ে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে আদালত। মামলার বরাত দিয়ে এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান জানান, সহিংসতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে গোবিন্দগঞ্জ থানায় ২০৩/২৩ নং মামলাটি ২৫ মে রুজু করা হয়। মামলায় ঘটনার সময় ১১টা এবং তারিখ উল্লেখ আছে ২১ মে। অথাৎ ভোটের দিন এগারটায় মামলা, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে বাদি উল্লেখ করেন। অথচ মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে ভোটের দিন মোটরসাইকেল প্রতিকের পুলিং এজেন্ট ছিলেন ১৫ জন আর একজন মাদ্রাসার সুপার মোজাহারুল ইসলাম ছিলেন একটি কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে। আদালতে শুনানী শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবি ভবেশ চন্দ্র বলেন, একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলায় আদালত ১১৯ জনের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের জেরেই বাদি শহিদুল ইসলাম উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে মামলাটি দায়ের করেন। আসামিদের জামিনে জজ আদালতে আবেদন করা হবে। উল্লেখ, দ্বিতীয় ধাপে গত ২১ মে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ চলাকালে সকাল ১১টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পাড়া কচুয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের বসতবাড়িতে হামলা, মারপিট, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে গত ২৫ মে রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা একটি মামলা করেন। ২০৩/২৩ নং মামলায় ১৩৩ জন নামীয় আসামী হলেও একই আসামির নাম দুইবার হওয়ায় ১৩১ জন মুল ও অজ্ঞাত ১০০/২০০ জনকে আসামি করা হয়।এদের মধ্যে একজন আসামি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে পাঠানো উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজ খানুন, পৌর যুবলীগের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, উপজেলা কৃষকলীগের দপ্তর সম্পাদক বোরহান উদ্দিন লেলিন, উপজেলা যুবলীগের সদস্য জলিল, কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশাদুল ইসলাম, শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেন, শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রোকন আকন্দ। এছাড়া মামলার এজাহার নামীয় ২০ থেকে ২৫ জন (মোটরসাইকেল) প্রতিকের কর্মী-সমর্থক হলেও বাকি আসামি সকলেই আওয়ামীলী ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।বাদির অভিযোগ, উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আব্দুল লতিফ প্রধানের(মোটরসাইকেল) প্রতিকের কর্মীসমর্থক সংঘবদ্দ হয়ে তাহার বাড়িতে প্রবেশ করে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট, অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতিসাধণ ও ভয়ভীতি এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তার দুই কোটি পয়তাল্লিশ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে থানায় মামলা করে

Discover more from জনসংযোগ

Subscribe to get the latest posts sent to your email.