কসময় শিক্ষার্থীরা যেকোনো জিজ্ঞাসার জন্য ভরসা করত গুগলের ওপর
উচ্চশিক্ষায় AI-ই শিক্ষক! AI কীভাবে বদলে দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার চেহারা
- সময়: ১১:৫৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
- / ১৪২

হাফসা আক্তার সাদিয়া: একসময় শিক্ষার্থীরা যেকোনো জিজ্ঞাসার জন্য ভরসা করত গুগলের ওপর। বইপত্র ঘেঁটে, লাইব্রেরিতে গিয়ে উত্তর খুঁজে বের করা ছিল সাধারণ চিত্র। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন এক নতুন “শিক্ষক” এসে গেছেন শিক্ষার্থীদের জীবনে—তাঁর নাম AI (Artificial Intelligence)। ক্লাসে না থেকেও এই শিক্ষক ২৪ ঘণ্টা পাশে থাকেন, প্রশ্ন করলে উত্তর দেন, সমস্যা বুঝিয়ে সমাধান করেন, এমনকি রিসার্চেও সাহায্য করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট, AI এখন শুধু সহায়ক নয়, বরং শিক্ষার অংশ হয়ে উঠেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের CSE বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ জানায়—
“AI ছাড়া এখন কোডিং শেখা অসম্ভব। ChatGPT, GitHub Copilot—এই টুলগুলো আমাদের জটিল সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করে। শুধু সমাধানই নয়, ব্যাখ্যা করেও শেখায়।”
ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থী মুনিয়া বলে—
“আমরা নিয়মিত Grammarly, QuillBot ব্যবহার করি। AI আমাদের রাইটিং স্কিল উন্নত করছে, একইসাথে ব্যাকরণগত ভুলও ধরিয়ে দিচ্ছে। আগে একটা এসের জন্য অনেক সময় লাগত, এখন অনেক সহজ।”
আই. ই. আর. এর শিক্ষার্থী হেলাল সরদার জানায়-
“প্রেজেন্টেশন, রিপোর্ট, এবং মার্কেট অ্যানালাইসিসে AI খুব কার্যকর। Excel-এর AI ফিচার, Tableau, ChatGPT সবই কাজে লাগছে। সময় বাঁচে, কোয়ালিটিও ভালো হয়।”
AI-এর শিক্ষাগত সম্ভাবনা: AI যেমন আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রকে সহজ করছে, তেমনি বাঁচিয়ে দিচ্ছে আমাদের সময়ও। তাছাড়া AI-
শেখার গতি ও মান বাড়ায়
২৪/৭ গাইডলাইন দেয়
কাস্টমাইজড লার্নিং সিস্টেম তৈরি করে
গবেষণায় ডেটা বিশ্লেষণের সুযোগ করে দেয়
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ইন্টারঅ্যাকশন ছাড়াও নিজের ইচ্ছামত শেখার পরিবেশ তৈরি করে
তবে সতর্কতাও জরুরি:
শিক্ষকগণ মনে করছেন, AI ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৌলিক চিন্তার ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
চ.বি.-এর শিক্ষক ড. আরিফা সুলতানা বলেন—
“অনেক সময় দেখা যায় শিক্ষার্থীরা AI-এর তৈরি লেখা হুবহু কপি করে দেয়। এটা শেখার নামে মুখস্থভিত্তিক নির্ভরতা বাড়ায়।”
পরিশেষে বলা যায়-
গুগল থেকে শুরু করে লাইব্রেরি—সবকিছুর জায়গা আজ নিয়েছে AI। এটি উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীদের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। তবে এই সম্ভাবনা তখনই কাজে লাগবে, যখন শিক্ষার্থীরা AI-কে শিক্ষক হিসেবে গ্রহণ করবে, কিন্তু নিজেদের চিন্তাশক্তিকে চাপা দেবে না।
কারণ, AI উত্তর দিতে পারে, কিন্তু “চিন্তা” করতে পারে কেবল মানুষই।
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.




















