চলাচলের অযোগ্য রাস্তা, বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান কাঁদা লালপুর
- সময়: ০৩:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
- / ৪০

(নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুরে অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়নের বামনগ্রাম পশ্চিম পাড়ায় প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা মাটির রাস্তা। সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান কাদা-পানির সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি ও মাটি মিশে কাদায় একাকার হয়ে যায় পুরো রাস্তা। এতে বিপাকে পড়েন ওই এলাকার শত শত মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রাস্তাটিতে ইটের ছোঁয়া না লাগায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়নের বামনগ্রাম পশ্চিম পাড়া গ্রামের “বিজয়পুর ব্রিজ থেকে আলম মন্ডলের বাড়ি ও বামনগ্রাম কমিউনিটি থেকে আব্দুস সালামের বাড়ি পর্যন্ত” প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিকল্প কোনো পথের ব্যবস্থা না থাকায় হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়েই চলাচল করতে হয় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, বৃদ্ধসহ অন্য সবার।
সারা বছরের প্রায় ৫/৬ মাস ভোগান্তির শিকার হতে হয় গ্রামবাসীর। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয় তাদের। এই এলাকার মানুষের আতঙ্ক ও ভয়ের আরেক নাম বৃষ্টি। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে হাঁটু সমান কাদা।
কাদার জন্য গ্রামের এ রাস্তায় কোনো ভ্যান-রিক্সা ঢোকে না। মোটরসাইকেল, সাইকেলে তো দূরে থাক, খালি পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দায়। বৃষ্টির দিনে গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো যানবাহন ও এ্যাম্বুলেন্সও এখানে ঢুকতে পারে না। অনেক সময় কেউ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে কাঁধে করে কর্দমাক্ত রাস্তা পার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আফাজ উদ্দিন বলেন, আমাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্ভোগের কথা কেউ শুনে না। আমাদের ভোগান্তির কথা বলে বোঝানো যাবে না, নিজ চোখে দেখতে হবে। আমরা ঠিকমতো হাটবাজারে যেতে পারি না। কৃষিপণ্য সময়মতো বিক্রি করতে পারি না। আমাদের ছেলেমেয়েরা কষ্ট করে স্কুল-কলেজে যায়। বিশেষ করে বৃষ্টি-কাদার দিনে জুতা স্যান্ডেল হাতে নিয়ে দুই কিলোমিটার কাদা মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। আর কত কাল এ কষ্ট করতে হবে কে জানে। ইয়াসিন আলী জানান, এলাকায় প্রচুর কৃষি ফসল উৎপাদন হয়। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারণে কৃষকরা সময়মতো পণ্য বাজারজাত করতে পারেন না। ফলে ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হতে না হতেই রাস্তার পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কি করে চলাচল করব আমরা কিছুই বুঝে পারি না। জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধর্ণা দিয়েও কোনো ফল হয়নি। তাদের কাছে অনুরোধ আমাদের এই রাস্তার দিকে একটু নজর দেওয়ার জন্য।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ খালিদ হোসেন (লালন) বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা। রাস্তার বিষয়ে আমরা অনেক দৌড়ঝাপ করছি। আশা করি, খু্ব তাড়াতাড়ি এর একটা সমাধান হবে।
এ বিষয়ে অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, এই রাস্তাটির জন্য এলাকাবাসী খুবই দুর্বিষহ জীবন যাপন করে, এই রাস্তার এক অংশে এক কিলোমিটার পাকা করা হয়েছে এবং বাকিটুকু করার জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি, এবং আমার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি সু নজরে নিয়ে অতিসত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো: সাজেদুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তার একদিকে এক কিলোমিটার পাকা করুন করা হয়েছে। আগামী বরাদ্দ আসলে আমরা অবশ্যই বিষয়টি সুনজরে নিয়ে রাস্তাটি করার চেষ্টা করবো।
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.














