ছাত্রদল নেতার উদ্যোগে কুবিতে উন্মুক্ত পাঠাগারে নতুন প্রাণ
- সময়: ১১:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ৪৫

কুবি প্রতিনিধি: ইউনুস সুজন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের “উন্মুক্ত ক্যাম্পাস লাইব্রেরি”—শিক্ষার্থীদের অবসরে বই পড়ার সুযোগ করে দেওয়া এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থী তাজুল ইসলামের হাত ধরে সূচনা হয়েছিল এই পথচলার। ক্যাম্পাসের গাছতলায় ক্লাসের ফাঁকে কিংবা বাসের অপেক্ষায় বই হাতে শিক্ষার্থীদের দেখা মিলত, যেন অনিয়ন্ত্রিত ব্যস্ততার মাঝেও খুঁজে পেয়েছিল একটু ছায়ামাখা শান্তি।
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই বইবক্সগুলো ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যায়। সকালের শিশিরে ভিজে থাকা বইয়ের বক্রগুলো যেন হারিয়ে ফেলেছিল পাঠকের হাতছানি। ঠিক এমন সময়েই নতুন আলো দেখা দিল।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক
আবুল বাশার চারটি বক্সে মোট ১২টি বই উপহার দেন। তিনি নৃবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী।
নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি একাজ করেছেন বলে জানান এছাড়াও তিনি বলেন, ‘বই মানুষের অন্তরের অন্ধকার দূর করে মানবিক চেতনাকে জাগ্রত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে উন্মুক্ত লাইব্রেরি স্থাপনকারীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। কয়েক দিন আগে জানতে পারি লাইব্রেরিগুলোতে পর্যাপ্ত বই নেই। তাই ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কিছু বই দিয়েছি। ভবিষ্যতেও এ উদ্যোগ চলবে। বাশার আরও আশা প্রকাশ করে বলেন, “ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভবিষ্যতে আরও উন্মুক্ত লাইব্রেরি স্থাপন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই পাঠ্যবহির্ভূত বইয়ের সংস্পর্শে আসতে পারে।”
শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ক্যাম্পাসে রাজনীতি বলতে অনেক সময় শুধু প্রভাব, দখল বা পেশিশক্তির ব্যবহারই চোখে পড়ে। কিন্তু একজন ছাত্রনেতা হয়ে বাশার ভাইয়ের এ রকম উদ্যোগ আমাদের কাছে ইতিবাচক উদাহরণ। আমরা চাই, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী সবাই শিক্ষার্থীবান্ধব কাজকে অগ্রাধিকার দিন।” তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা ও গবেষণার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করতে সক্ষম।
উন্মুক্ত ক্যাম্পাস লাইব্রেরির উদ্যোক্তা তাজুল ইসলাম স্মরণ করিয়ে দেন এই উদ্যোগের মূল দর্শন
“আমরা চায়েছিলাম জ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে। শুরু থেকেই সবাইকে আহ্বান জানিয়েছিলাম বই দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য। আজকে কেউ সেই আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন এটাই আমাদের সফলতা। ”
তাজুল মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম শুধু ক্যাম্পাসেই নয়, বৃহত্তর জাতীয় জীবনে একটি দায়িত্বশীল, সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
Discover more from জনসংযোগ
Subscribe to get the latest posts sent to your email.



















